ভ্রমণে কসর নামাজের নিয়ম-কানুন

প্রকাশিত: ৭:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২৩

ভ্রমণে কসর নামাজের নিয়ম-কানুন

Manual8 Ad Code

ধর্ম ডেস্ক :
সফর কিংবা ভ্রমণ আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটি আসলে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমরা যখন নিজের আবাসস্থলে থাকে, তখন পূর্ণাঙ্গ নামাজ আদায় করতে হয়। কিন্তু ভ্র‘মণে বা সফরে গেলে কসর আদায় করতে হয়।

 

ভ্রমণে কসর আদায় করা- আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার এক ধরনের বড় সুবিধা। কসর করা মানে সংক্ষেপ করা। আর শরিয়াত নির্ধারিত দূরত্বে সফর করলে- তখন নামাজ সংক্ষেপ করাই ইসলামের বিধান।

 

নামাজ কখন কসর করতে হয়? এ নামাজ পড়লে কল্যাণ লাভ হয়
নামাজ কখন কসর করতে হয়? এটা জেনে রাখা জরুরি। মূলত কসর নামাজ পড়তে হয় শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসাফির হলে। আর শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসাফির বলা হয়- কোনো ব্যক্তি তার অবস্থানস্থল থেকে ৪৮ মাইল তথা ৭৮ কিলোমিটার দূরে সফরের নিয়তে বের হয়ে- নিজ শহর বা গ্রাম পেরিয়ে গেলেই সে মুসাফির হয়ে যায়। (জাওয়াহিরুল ফিকহ: ১/৪৩৬)

 

মুসাফির ব্যক্তির নামাজ পড়ার নিয়ম হলো- তিনি চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজ দুই রাকাত (কসর) পড়বেন। আর এইভাবে সংক্ষেপে নামাজ পড়ার ভেতর আল্লাহ তাআলা কল্যাণ রেখেছেন।

 

Manual3 Ad Code

পবিত্র কোরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, ‘তোমরা যখন জমিনে সফর করবে, তখন তোমাদের জন্য নামাজের কসর করায়- কোনো আপত্তি নেই’। (সূরা: নিসা, আয়াত: ১০১)

Manual7 Ad Code

 

কসর যেভাবে নামাজ পড়বেন
মুসাফির চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজ একাকী পড়লে বা মুসাফির ইমামের পেছনে আদায় করলে, কসর করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে পূর্ণ নামাজ পড়া ঠিক নয়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা তোমাদের নবীর মুখে নামাজকে মুকিম অবস্থায় চার রাকাত ও সফর অবস্থায় দুই রাকাত ফরজ করেছেন’। (মুসলিম, হাদিস: ৬৮৭)

 

মুসাফির ব্যক্তি সফর অবস্থায় ইচ্ছাকৃত চার রাকাত নামাজ পূর্ণ করলে গুনাহ হবে (তবে মুকিম ইমামের পেছনে হলে অসুবিধা নেই)। এ ক্ষেত্রে নামাজ পুনরায় পড়বে।

 

আর যদি ভুলক্রমে চার রাকাত শুরু করে দেয় এবং প্রথম বৈঠক করে থাকে, তা হলে সিজদা সাহু করে নিলে ফরজ নামাজ আদায় হয়ে যাবে। আর যদি প্রথম বৈঠক না করে থাকে, তা হলে ফরজ আদায় হবে না, আবারও পড়তে হবে। (বাদায়েউস সানায়ি : ১/৯১)

 

Manual1 Ad Code

মুকিম ব্যক্তি ইমামের পেছনে যেভাবে নামাজ পড়বেন
মুসাফির ব্যক্তি মুকিম ইমামের পেছনে ইকতিদা করলে- সে ইমামের অনুসরণেই পূর্ণ নামাজ আদায় করবে। (আল-মাবসুত, সারাখসি: ১/২৪৩)

 

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘মুসাফির যদি মুকিমদের সঙ্গে নামাজে শরিক হয়, তবে সে যেন তাদের মতো (চার রাকাত) নামাজ পড়ে’। (ইবনে আবি শাইবা: ৩৮৪৯)

 

সফর অবস্থায় নামাজ কসর করা সম্পর্কে অনেক হাদিস রয়েছে। এসব হাদিস দ্বারা সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত যে, বিশ্ব নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) সফর অবস্থায় সর্বদা নামাজ কসর পড়েছেন। আর মাগরিব, বিতর ও ফজরের নামাজ পূর্ণই আদায় করতে হবে, এগুলোর কসর নেই।

 

সফরে সুন্নত নামাজ পড়ার বিধান
মুসাফির ব্যক্তির জন্য চলন্ত অবস্থায় বা তাড়াহুড়া থাকলে- ফজরের সুন্নত ছাড়া অন্যান্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা না পড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে স্বাভাবিক ও স্থির অবস্থায় সুন্নত নামাজ আদায় করবে। (ইলাউস্ সুনান: ৭/১৯১; রাদ্দুল মুহতার : ১/৭৪২)

 

Manual2 Ad Code

মূলত সফর অবস্থায় তাড়াহুড়া ও ব্যস্ততার সময় সুন্নত না পড়ার অবকাশ আছে। আর গন্তব্যে পৌঁছার পর সুন্নত নামাজ পড়া উত্তম। সুন্নত পড়লে পুরোটাই পড়বে। কেননা সুন্নত নামাজের কসর হয় না।

 

লক্ষণীয় যে, ভ্রমণে পূর্ণ নামাজের বদলে অর্ধেক পড়ার কারণে ধারণা হতে পারে যে, নামাজ বোধ হয়- পূর্ণ হলো না। কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়। কারণ, ভ্রমণে নামাজ কসর করা বা সংক্ষেপে আদায় করা- শরিয়তের বিধান ও নির্দেশ। এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সুযোগও বটে। তাই এটা পালনেই সওয়াব, এর ব্যতিক্রম করা সম্পূর্ণ অনুচিত।

 

(সুরমামেইল/এএইচএম)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code