সিলেটের ডিসি সারওয়ারের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চাইলেন আদালত

প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২৬

সিলেটের ডিসি সারওয়ারের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চাইলেন আদালত

Manual4 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিলেটে তাজ উদ্দিন নামের এক যুবক নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার তদন্তে অসহযোগিতা এবং আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে সিলেট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চেয়েছেন আদালত।

 

Manual5 Ad Code

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রয়োজনীয় ‘আইনি অনুমতি’ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

মন্ত্রণালয় ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানাধীন ঢাকা দক্ষিণ আঞ্চলিক মহাসড়কে আন্দোলন চলাকালে গুলিতে নিহত হন তাজ উদ্দিন। এই ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মোছা. রুলী বেগম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার দিন ওই এলাকায় দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নাম এবং কার আদেশে গুলি চালানো হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। একই সঙ্গে বিজিবির কাছেও ওই দিনের দায়িত্বরত সদস্যদের তথ্য চাওয়া হয়।

 

​পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দায়িত্বরত সদস্যদের তালিকা সরবরাহ করলেও সিলেটের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রহস্যজনকভাবে নীরব থাকেন। বারবার সময় দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কাঙ্ক্ষিত তথ্য প্রদান করেননি, যা মামলার তদন্ত কার্যক্রমকে স্থবির করে দেয়।

 

তদন্তে সহযোগিতা না করায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি সিলেটের জেলা প্রশাসক ডিসিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করেন। নোটিশে কেন তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ অমান্য ও বিচারিক কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। আদালত এই বিষয়ে আদেশের জন্য গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং পরবর্তীতে ১ মার্চ তারিখ ধার্য করলেও ওই সময়ের মধ্যে ডিসি কোনো জবাব দেননি কিংবা তথ্য প্রদানের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

 

​গত ১ মার্চ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হয়েও আদালতের আদেশ বারবার উপেক্ষা করা শুধু বেআইনিই নয় বরং ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে চরম অন্তরায়। আদালতের মতে, ডিসির এই কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধির ১৭৫, ১৭৯ ও ২১৭ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Manual8 Ad Code

 

Manual6 Ad Code

আইন অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা করতে হলে সরকারের পূর্বানুমতি প্রয়োজন। এই প্রেক্ষিতে আদালত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি গ্রহণ করে আদালতকে অবহিত করতে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের এমন অসহযোগিতা এবং আদালতের এই নজিরবিহীন কড়া নির্দেশ সিলেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

Manual7 Ad Code

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code