সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু, আইসোলেশন সেন্টার চালু

প্রকাশিত: ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২৬

সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু, আইসোলেশন সেন্টার চালু

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোগটির প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় রোগীর চাপ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে।

 

সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম বলেন, সোমবার (১১ মে) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

এনিয়ে সিলেট হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ২৮ জনে দাঁড়াল।

 

তিনি বলেন, এ দুই শিশু ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এর মধ্যে সাত মাস বয়সী ইকরা জান্নাত সিলেট নগরের বাসিন্দা। অপরজন দশ মাস বয়সী শিশু মারওয়ান আহমেদ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ছিল।

Manual4 Ad Code

 

এদিকে মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য সিলেট বিভাগীয় পরিচালক কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।

Manual6 Ad Code

 

এছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চারজন, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে একজন এবং বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২৮৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১২৩ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭২ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮ জন চিকিৎসাধীন।

 

এ বাইরে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালেও রোগীরা ভর্তি রয়েছেন। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১৪৭ জনের হাম ও রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ৭৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া সিলেটে ৪২ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন শনাক্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে দুজন রুবেলায় আক্রান্ত।

Manual1 Ad Code

 

তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো ল্যাব কনফার্ম হাম রোগী শনাক্ত হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Manual6 Ad Code

 

এদিকে রোগীর চাপ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে।

 

হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, সোমবার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখা দেয়। সে অনুযায়ী ৩২ নম্বর ওয়ার্ডকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করে ৩৮ শয্যার এই ইউনিট চালু করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, বিশেষ রোগী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শুরু হয় এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে। শুরুতে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১০০ শয্যা নিয়ে রোগী ভর্তি কার্যক্রম চালু করা হয়। পরবর্তীতে চাপ বাড়ায় ধাপে ধাপে সেবা সম্প্রসারণ করা হয়।

 

তিনি আরও বলেন, রোগীর চাহিদা বিবেচনায় এর আগেই ওসমানী হাসপাতালে ১০ শয্যার পিআইসিইউ এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭ শয্যার এইচডিইউ ইউনিট চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার চাপ মোকাবিলায় দুই হাসপাতালের মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা চলমান রয়েছে।

 

ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হামের রোগীদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করাই এই আইসোলেশন সেন্টার চালুর মূল উদ্দেশ্য। একইসঙ্গে অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code