শাহজালাল (রহ.)-এর দানবাক্সে ‘স্বামী-স্ত্রীর ভুল বোঝাবুঝির অবসান চেয়ে চিঠি’

প্রকাশিত: ১০:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২৬

শাহজালাল (রহ.)-এর দানবাক্সে ‘স্বামী-স্ত্রীর ভুল বোঝাবুঝির অবসান চেয়ে চিঠি’

Manual8 Ad Code

দানবাক্সে পাওয়া স্বামী-স্ত্রীর ভুল বোঝাবুঝির অবসান চেয়ে চিঠি।


নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ) মাজারের দীর্ঘ বছরের প্রথা ভেঙে দ্বিতীয়বারের মতো দানবাক্সের (ডেগ) টাকা গণনা সম্পন্ন হয়েছে। মাত্র ১৮ দিনের মাথায় গণনা শেষে পাওয়া গেছে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা।

 

এদিকে সেই দানবাক্সে পাওয়া গেছে মনোবাসনা পূর্ণ করতে বিভিন্ন চিরকুট। তারমধ্যে রয়েছে এক দম্পতির ভুল বোঝাবুঝির অবসান চেয়ে একটি চিরকুট।

Manual7 Ad Code

 

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সোয়া ১১টা থেকে দরগাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে টাকা গণনা শুরু হয়। এসময় টাকার সঙ্গে বেশ কিছু চিরকুট পাওয়া যায়।

 

চিরকুটে আমিনুল নামের এক স্বামী তাঁর স্ত্রী মুন্নির প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করে এবং তাদের দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে কিছু আকুল প্রার্থনা জানিয়েছেন।

 

চিরকুটে তিনি লিখেছেন – ‘হে আল্লাহ আমাদের মিল মহব্বত বৃদ্ধি করে দাও। (M+A) আমাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির অবসান করে দাও। আমাদের আর্থিকভাবে সচ্ছল করে দাও। মুন্নি আমার বউ তাকে আমি অনেক অনেক ভালোবাসি। Munni + Aminul এর সম্পর্ক হাজার বছর টিকে রাখার তৌফিক দাও। ​আমাদের শত্রু থেকে বাঁচার তৌফিক দাও।’

 

​চিরকুটটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তাদের মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ার জন্য দোয়া করেন।



শনিবার দিনভর গণনা শেষে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গণনার ফল ঘোষণা করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

 

তিনি জানান, দানবাক্স ও ডেগ থেকে নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি রিয়াল, ভারতীয় রুপি, দিরহাম, ওমানের দিনার, ন্দোনেশিয়ান রুপিয়া, মার্কিন ডলার,  হংকং ডলার, ইউরো, সিঙ্গাপুর ডলার, কাতারি রিয়াল, মালয়েশিয়ান রিংগিত এবং পাকিস্তানি রুপি।

Manual4 Ad Code

 

এছাড়া দানবাক্স থেকে ৯ গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রূপা পাওয়া গেছে। সর্বশেষ গণনার পর থেকে মাজারে ভক্তদের দেওয়া গবাদিপশুর হিসাবও প্রকাশ করা হয়।

 

দেখা যায়, একটি গরু লঙ্গরখানায় জবাই করে রান্নার মাধ্যমে মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া মোট ৬৫টি ছাগল দান করা হয়। এর মধ্যে ৪০টি ছাগল লঙ্গরখানায় রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৫টি ছাগল বিক্রি করে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকা আয় হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ জুন প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের চারটি দানবাক্স এবং জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা আরও চারটি দানবাক্সসহ মোট আটটি দানবাক্স ডাবল লক অবস্থায় খোলা হয়। সেদিন নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং দুটি সৌদি রিয়াল পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকার একটি চেক যুক্ত করা হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরবর্তীতে পুরো অর্থ হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর নামে সোনালী ব্যাংকের কর্পোরেট শাখায় জমা দেওয়া হয়।

 

এর আগে গত ১৮ জুন বিকেল ৪টার দিকে মাজারের দান বাক্সগুলো সিলগালা করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

Manual6 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এফএ)

Manual3 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code