শিক্ষাখাতে দুর্নীতি ৬০ শতাংশেরও বেশি : টিআইবি

প্রকাশিত: ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩০, ২০১৬

শিক্ষাখাতে দুর্নীতি ৬০ শতাংশেরও বেশি : টিআইবি

Manual4 Ad Code

file

Manual3 Ad Code

সুরমা মেইল নিউজ : গত বছরে সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে তৃতীয় স্থানে শিক্ষা (সরকারি ও এমপিওভুক্ত)। দুর্নীতির হার ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রথম স্থানে পাসপোর্ট ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, দ্বিতীয় স্থানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ৭৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

এরপর বিআরটিএ ৬০দশমিক ১ শতাংশ, ভূমি প্রশাসন ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ, বিচারিক সেবা ৪৮দশমিক ২ শতাংশ ও স্বাস্থ্য ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)কর্তৃক পরিচালিত ‘সেবাখাতে দুর্নীতি বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ খবর জানা যায়। ২০১৫ সালে বিভিন্ন সেবা খাতে দুর্নীতি ও হয়রানির হার ২০১২ তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত (৬৭.৮% বনাম ৬৭.৩%) থাকলেও সেবাগ্রহণকারী খানা সমূহকে ২০১২ সালের তুলনায় প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা বেশি প্রদান করতে হয়েছে।

বিভিন্ন খাতে সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের জনগণের ওপর ঘুষ তথা দুর্নীতির বোঝা অধিক। জরিপে অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৭১% খানা ঘুষ বা নিয়ম বর্হিভূত অর্থ প্রদানের মূল কারণ হিসেবে ‘ঘুষ না দিলে কাংঙ্খিত সেবা পাওয়া যায় না’ এই কারণটিকে চিহ্নিত করেছেন।

Manual1 Ad Code

বুধবার সকালে টিআইবির ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০১৫’ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল তুলে ধরে টিআইবি জানায় জাতীয়ভাবে প্রক্কলিত মোট ঘুষ বা নিয়ম বর্হিভূত অর্থের পরিমাণ ৮৮২১.৮ কোটি টাকা।

Manual6 Ad Code

এই প্রাক্কলিত অর্থের পরিমাণ ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের বাংলাদেশের জিডিপি’র ০.৬% এবং জাতীয় বাজেটের (সংশোধিত) ৩.৭%।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন টিআইবি’র গবেষণা ও পলিসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. ওয়াহিদ আলম, প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফারহানা রহমান ও ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ নূরে আলম। টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল এর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র কমিউনিটি সিরিজের এর আলোকে নমুনা কাঠামো তৈরি করে তিন পর্যায় বিশিষ্ট স্তরায়িত গুচ্ছ নমুনায়ন পদ্ধতিতে জরিপটি পরিচালিত হয়। নভেম্বর ২০১৪ থেকে অক্টেবর ২০১৫ পর্যন্ত খানাসমূহ ১৫টি প্রধান ও অন্যান্য খাতে যেসকল সেবা গ্রহণ করেছে তার উপর ভিত্তি করে ১ নভেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

জরিপের বৈজ্ঞানিক মান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যায়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পাঁচজন বিশেষজ্ঞের সার্বিক সহায়তা ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছে। পল্লি এলাকায় ৭০% এবং শহর এলাকায় ৩০% নমুনা বিবেচনায় ও ৬৪টি জেলা ও ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে স্তর বিবেচনায় প্রতি স্তরে দৈবচয়নের মাধ্যমে ২৪০টি খানা নির্বাচন করা হয়। জরিপের আওতাভুক্ত মোট ১৫৮৪০টি খানার মধ্যে ১৫,২০৬টি খানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়, যার মধ্যে গ্রামাঞ্চলে ১০,৭৮৩টি (৭০.৬%) শহরাঞ্চলে ৪,৬৬৩টি (২৯.৪%)।

দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় গুরুত্ব ও প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ১৫টি প্রধান খাতকে জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। খাতসমূহের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, ভূমি প্রশাসন, কৃষি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, বিচারিক সেবা, বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং, কর ও শুল্ক, এনজিও, পাসপোর্ট, গ্যাস, বিআরটিএ, বীমা। এছাড়া তথ্য প্রদানকারীরা এর অতিরিক্ত যে সকল খাত উপ-খাতের তথ্য প্রদান করেন সেগুলো ‘অন্যান্য’ (ওয়াসা, বিটিসিএল, ডাক ইত্যাদি) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code