১৩ বছর ধরে ফ্রিজে রাখা জরায়ুর সাহায্যে সন্তানের জন্ম!

প্রকাশিত: ২:১৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৬

Manual6 Ad Code

Manual1 Ad Code

নিউজ ডেস্ক :: শৈশবেই নিজের জরায়ুর টিস্যু ফ্রিজে জমিয়ে রেখেছিলেন। ২৪ বছর বয়সে ফ্রিজে রাখা জরায়ুর সাহায্যেই মা হলেন মোয়াজা আল মাতরুশি। বয়ঃসন্ধির আগেই জরায়ুর টিস্যু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ১৩ বছর পর সেই টিস্যু ব্যবহার করেই লন্ডনের পোর্টল্যান্ড হাসপাতালে পুত্র রশিদের জন্ম দেন দুবাইয়ের বাসিন্দা মোয়াজা।

Manual5 Ad Code

বিশ্বের প্রথম মহিলা হিসেবে এই পদ্ধতিতে সন্তানের জন্ম দিলেন মোয়াজা।

কেন প্রয়োজন হয়েছিল টিস্যু ফ্রিজ করার? শৈশবে বিটা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন মোয়াজা। এই রোগের ফলে রক্তে অক্সিজেন বহন করার ক্ষমতা কমে আসে। ৯ বছরের মেয়েকে লন্ডনের গ্রেট ওরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালে নিয়ে আসেন মোয়াজার বাবা-মা। ভাইয়ের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করা হয় তার শরীরে।

চিকিত্সার জন্য কেমোথেরাপি প্রয়োজন ছিল। কিন্ত তাতে মোয়াজার ৯৯ শতাংশ বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি ছিল। মোয়াজার মা জরায়ু ফ্রিজ করার পদ্ধতির কথা জানতেন। মোয়াজা বলেন, নিজের সর্বস্ব দিয়ে শুধু আমাকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন মা।

Manual2 Ad Code

লন্ডন থেকে সুস্থ হয়ে দুবাই ফিরে আসেন মোয়াজা। ২০ বছর বয়সে বিয়ের পর থেকেই মা হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু অনিয়মিত পিরিয়ড ও হট ফ্লাশের মতো পেরি-মেনোপজাল সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। ২০১৪ সালে লন্ডনে এসে হরমোন থেরাপি করানোর পরও হতাশ হয়েই ফিরে যেতে হয়। কিন্ত হাল ছাড়েননি মোয়াজার স্বামী আহমেদ। ২০১৫ সালের অগাস্ট মাসে তার ফ্রজেন ওভারি ফের মোয়াজার শরীরে প্রতিস্থাপন নিয়ে গবেষণা শুরু করেন ডেনমার্কের একদল চিকিত্সক।

Manual3 Ad Code

জরায়ু প্রতিস্থাপন : ধীরে ধীরে মোয়াজার জরায়ুর অংশ তার শরীরে প্রতিস্থাপন শুরু হয়। তিন মাস পর শুরু হয় আইভিএফ পদ্ধতি। এপ্রিল মাসে গর্ভধারণ করেন মোয়াজা।

ইতিহাস : বিশ্বের প্রথম এই ধরনের চিকিৎসার ইতিহাস গড়ার পর ভবিষ্যতে এই চিকিৎসা আশার আলো দেখাবে বলে মনে করছেন চিকিৎসা। ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনোকোলজির চিকিৎসক রিচার্ড অ্যান্ডারসন জানালেন, এর আগে ফ্রজেন ওভারি থেকে অন্তত ১০০ জন মহিলা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। কিন্তু বয়ঃসন্ধির আগে ফ্রিজ করা ওভারিয়ান টিস্যু থেকে শিশুর জন্ম এই প্রথম।

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code