চা বিক্রয়ে ন্যাশনাল টি কোম্পানির নতুন ইতিহাস

প্রকাশিত: ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২৬

চা বিক্রয়ে ন্যাশনাল টি কোম্পানির নতুন ইতিহাস

Manual8 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
দেশের চা শিল্পে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করেছে ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড। চট্টগ্রাম চা নিলাম বাজারে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত নিলামে প্রতিষ্ঠানটির ১২টি চা বাগানে উৎপাদিত চা বিক্রিতে সর্বকালের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। উচ্চমূল্যে বিপুল পরিমাণ চা বিক্রির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শুধু নিজেদের অতীতের সব রেকর্ডই ভেঙে দেয়নি, দেশের চা শিল্পেও একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

 

গত ৩ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম চা নিলামে ন্যাশনাল টি কোম্পানির ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা বিক্রি হয়। প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ছিল ২৮৬ টাকা ৫৯ পয়সা, যা সরকার-নির্ধারিত ২৪৫ টাকা ফ্লোর প্রাইসের তুলনায় ৪১ টাকা ৫৯ পয়সা বেশি। এতো বিপুল পরিমাণ চা এর আগে কখনো এতো উচ্চ গড় মূল্যে বিক্রি হয়নি, যা কোম্পানির ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন।

 

Manual2 Ad Code

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কোম্পানির আওতাধীন ১২টি চা বাগানের প্রতিটির চায়ের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল কেজিপ্রতি ২৮০ টাকার বেশি। একই নিলামে সব বাগানের চা এভাবে ২৮০ টাকার বেশি গড় মূল্যে বিক্রির নজির এর আগে কখনো সৃষ্টি হয়নি। ফলে এবারের নিলাম ন্যাশনাল টি কোম্পানির ইতিহাসে অন্যতম সফল নিলাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

সর্বশেষ নিলামে কোম্পানির মোট বিক্রয় আয় হয়েছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সাফল্য প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত চায়ের গুণগত মান, ক্রেতাদের আস্থা এবং বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

 

Manual4 Ad Code

শুধু নিলাম বাজারেই নয়, উৎপাদনেও ধারাবাহিক অগ্রগতি ধরে রেখেছে ন্যাশনাল টি কোম্পানি। চলতি বছরের ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানির মোট চা উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং মানোন্নয়ন কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের ফলে এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

কোম্পানি সূত্র জানায়, চায়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে চা শ্রমিকদের ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে কাঁচা পাতা সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উন্নতমানের কাঁচা পাতা সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি নিবিড় তদারকি এবং আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত চায়ের রং, সুগন্ধ, স্বাদ ও ঘনত্বে উল্লেখযোগ্য উন্নতি এসেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিলাম বাজারেও, যেখানে কোম্পানির চা ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ অর্জন করে সর্বোচ্চ মূল্য নিশ্চিত করেছে।

 

চা শিল্প-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ন্যাশনাল টি কোম্পানির এই সাফল্য দেশের চা শিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মান উন্নয়ন এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের চায়ের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

 

ন্যাশনাল টি কোম্পানির কোম্পানি সচিব এ. কে. আজাদ চৌধুরী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের জানান, ‘প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চা উৎপাদন, গুণগত উৎকর্ষ বজায় রাখা এবং দেশের চা শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।’

 

তিনি কোম্পানির উন্নয়ন এবং দেশের চা শিল্পের অগ্রযাত্রায় চায়ের ভোক্তা, ক্রেতা ও সকল শুভানুধ্যায়ীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

 

(সুরমামেইল/এমবিএন)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code