সিলেট ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৪৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
মেইল ডেস্ক:
২০০৫ সালে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডীয় জ্বালানি কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেসকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত।
‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অফ ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস’ (ইকসিড)-এর এই রায় কয়েক দিন আগে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে সরকারের কাছে পৌঁছেছে বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে নিশ্চিত করেছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান।
যদিও বাংলাদেশ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল, তবে ট্রাইব্যুনাল এর চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম অর্থ দেওয়ার আদেশ দিয়েছে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এখনো রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাননি, তবে রায়ের একটি সারসংক্ষেপ পেয়েছেন। গত মঙ্গলবার বাপেক্সের এক বোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান বলেন, ‘এটি একটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিষয়। আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পেলে সেটি আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠাব এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে কানাডা-ভিত্তিক নাইকো রিসোর্সেসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান নাইকো রিসোর্সেস (বাংলাদেশ) লিমিটেড ফেনী ও ছাতক গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-এর সাথে একটি যৌথ অংশীদারিত্ব চুক্তি সই করে। একটি পৃথক চুক্তির আওতায় ফেনী গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাস ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পেট্রোবাংলা।
তবে ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে খনন কাজ চালাতে গিয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে একটি কূপ খননের সময় প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে এবং একই বছরের জুনে দ্বিতীয় দফায় আবার বিস্ফোরণ হয়। এই ঘটনায় গ্যাসক্ষেত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণহানি এবং মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটে।
পরবর্তীতে সরকারি তদন্তে নাইকোর খনন প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে লোকসানের ক্ষতিপূরণ চেয়ে নাইকোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশি আদালতে মামলা করে পেট্রোবাংলা।
বিস্ফোরণের ফলে প্রাকৃতিক সম্পদের ধ্বংস, পরিবেশগত ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক লোকসানের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ বাপেক্ষের জন্য ১১৮ মিলিয়ন ডলার এবং সরকারের জন্য অতিরিক্ত ৮৯৬ মিলিয়ন ডলার মিলিয়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল।
(সুরমামেইল/এফএ)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি