সিলেট ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৪১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে ২২ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে চারজন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার। চার পরিবারে শোকের মাতম চলছে।
বলা হচ্ছে ওই চার যুবকের তিনজন উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের এবং আরেকজন রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা খবর পেয়ে পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং তারা অভিযোগ দিলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।
যাদের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছেছে বলে স্বজনরা দাবি করেছেন, তারা হলেন- উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সাঈদ সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫) এবং রনারচর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)।
ময়নার মামা উমেদ আলী শনিবার রাতে বলেন, তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে ময়না ছিল সবার আদরের। তার বাবা ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে তার ছেলেকে ইতালি পাঠিয়েছিলেন। জমি বিক্রি করে, গরু বিক্রি করে দালালের হাতে টাকা তুলে দিয়েছেন। এখন টাকাও গেল; ছেলেও চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল। আমরা দালাল চক্রের বিচার চাই।
একই গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য শাহনুর মিয়া বলেন, ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে জমিজমা, হালের গরু, মায়ের গয়না বিক্রি করে তরুণরা দালালের ফাঁদে পড়েছিল। লিবিয়ায় তারা সাগরে ডুবে মারা গেছে। যুবকদের পরিবারে কান্নার রোল চলছে।
এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জীব সরকার বলেন, আমরা শুনেছি এখানকার কয়েকজনের কথা। ফেইসবুকেও দেখেছি। আমি ওই সব এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বিষয়টি নিশ্চিত হতে তাদের (নিহতদের) বাড়িতে যাচ্ছেন। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।
(সুরমামেইল/ইউডি)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি