সিলেট ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২৪
সুনির্মল সেন, সিনিয়র রিপোর্টার :
সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে দিরাই-শাল্লা আসনে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে এলাকার সচেতন ভোটাররা মনে করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বি দুই প্রার্থীর সভা, সমাবেশ, মিছিলে অসংখ্য মানুষ অংশগ্রহণ করছেন।এখানে আওয়ামী লীগের ভোট দুইভাগে বিভক্ত থাকলেও কাঁচি মার্কার প্রার্থী জয়া সেনগুপ্তার জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।
এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বেশ ভোটার রয়েছেন। বিএনপি সমর্থিত এসব ভোটাররা জয়-পরাজয়ের ফ্যাক্টর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।জানা গেছে, নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ঘরনার ও বিএনপির অধিকাংশ লোক সুরঞ্জিত পত্নী জয়া সেনগুপ্তা এমপির পক্ষে নিরবে কাজ করছেন। আর সরাসরি সমর্থন দিয়েছেন প্রবীণ এই বিএনপি নেতা নাছির উদ্দিন চৌধুরী সংশ্লিষ্ট এক সূত্র তা নিশ্চিত করেছে ।
নির্বাচনে সকলের দৃষ্টি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (আল আমিন চৌধুরী) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. জয়া সেনগুপ্তার (কাঁচি) দিকে। এ আসনে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা হলেন- ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব মিজানুর রহমান, কবুতর প্রতীকে রয়েছেন গণতন্ত্রী পার্টির প্রার্থী দিরাই ডিগ্রি কলেজের প্রাপ্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিহির রঞ্জন দাস।
গত দুটি সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয় লাভ করেন ড. জয়া সেনগুপ্তা। এবার তিনি নৌকা প্রতীক পান নি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তিনি প্রার্থী হওয়ায় শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ পুলিশ প্রধানের ভাই ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীকের আল-আমিন চৌধুরী।
আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরাও দুইভাগে বিভক্ত হয়ে প্রচারণায় আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়া সেনগুপ্তার পক্ষে মাঠে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়, যুবলীগ নেতা মেয়র বিশ্বজিৎ রায়, সাবেক সহসভাপতি সিরাজ-উদ-দৌলা তালুকদারসহ একাধিক নেতাকর্মী।
অন্যদিকে নৌকার প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ আল আমিন চৌধুরীর পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল আহমদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন কুমার রায়সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এদিকে, দুই পক্ষের নির্বাচনী বিভিন্ন সভায় চলছে কথার লড়াইও। নৌকার পক্ষে থাকা নেতাকর্মীরা বলছেন, গত ৭ বছরে তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। জয়া সেনগুপ্ত নেতাকর্মীদের ধরে রাখতে পারেন নি। তার হয়ে একজন নেতা সকল সুযোগ, সুবিধা ভোগ করেছেন। এখন এক পরিবারের আধিপত্য থেকে বের হতে হবে।
জয়ার সমর্থকরা বলছেন, আমাদের নেত্রী সবসময় ছিলেন সাধারণ মানুষের পাশে। কখন কারো সাথে অন্যায় জুলুম করেননি। ঘুষ-দুর্নীতির সঙ্গে আপোষহীন। অসাম্প্রদায়িক দিরাই-শাল্লা গড়তে নেত্রীর সাথে থাকুন।
স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা বলছেন, বিএনপির সমর্থকরা যার সঙ্গে থাকবেন, জয়ের পাল্লা তার দিকেই যাবে।
উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য না মিললেও বিএনপির পদধারী একজন নেতা জানান, তারা ভোটকেন্দ্রের না গেলেও সমর্থকদের অনেকেই হয়তো যাবেন। সে আভাস মিলেছে দলটির তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেও।
বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নেতাকর্মীরা না গেলেও দিরাইয়ে বিএনপি সমর্থিত অনেক ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে যেতে পারেন। এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায়না।’
আম জনতার বক্তব্যে কয়েকজন ভোটার বলেন, আমরা যোগ্য ব্যক্তি দেখে ভোট প্রদান করবো। তবে এর মধ্যে দিরাই এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন ভোটার বলেন, আমরা এলাকার শান্তি-শৃ্ঙ্খলা বজায় রাখতে ভদ্র-মার্জিত-উচ্চ শিক্ষিত কাঁচি মার্কার প্রার্থী ও ভাঁটি বাংলার অহংকার সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পত্নী জয়া সেনগুপ্তা এমপিকে ভোট দেবো এবং সবাইকে বলবো জয়া বৌদিকে নির্বাচিত করার জন্য।
শাল্লা এলাকার ক’জন ভোটাররা বলেন, আলামিন চৌধুরী উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে নিজের পকেট ভারি করেছেন। এলাকার তেমন কোনো উন্নয়ন করেন নি। আমরা এবারও গতবারের মতো জয়া সেন গুপ্তা এমপিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবো।
এদিকে- এক মুক্তিযোদ্ধা জানিয়েছেন- এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে কোনো দূর্নীতিবাজকে আমরা ভোট দিব না। তবে শান্তি প্রিয় ব্যক্তিত্ব জয়া বৌদিকে আমরা ভোট দিতে বলবো সবাইকে। আমি আশাবাদি দিরাই-শাল্লা আসনে কাঁচি মার্কার জয় হবে হবেই। সাধারন ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ-২ আসনে নৌকার প্রার্থী আল আমিন চৌধুরীর সাথে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে। শেষ পর্যন্ত কাঁচি মার্কার প্রার্থী জয়া সেনগুপ্তার জয়ী হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
(সুরমামেইল/এফএ)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি