সিলেট ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২৬
দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর কয়েক দিনের টানা অতিবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বোরো ফসল নিয়ে চরম শঙ্কার মুখে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। একদিকে হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে, অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্মিত অপরিকল্পিত ডুবন্ত বাঁধ এখন কৃষকের জন্য আশীর্বাদের বদলে ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে হাওরের ভেতরে জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও বাঁধের কারণে সেই পানি নামতে পারছে না। ফলে তলিয়ে যাচ্ছে কচি ধান গাছ। উপায়ান্তর না পেয়ে কৃষকরা নিজেরাই কা কা কা কা কা করে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছেন। কৃষকদের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এসব বাঁধ নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ‘সুইসগেট’ বা কপাট রাখা হয়নি। ফলে পানি আটকে ধান পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
পরিকল্পনার অভাব না কি দুর্নীতির ফসল?
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বাঁধ নির্মাণের সময় যদি অন্তত দুটি করে সুইসগেট রাখা হতো, তবে আজ এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি হতো না। সময়মতো গেট খুলে দিলে পানি সহজেই নদীতে নেমে যেত। এখন একদিকে পাহাড়ি ঢলে মরা নদীগুলো পানিতে টইটম্বুর, অন্যদিকে হাওরের ভেতরে বৃষ্টির পানি জমে একাকার। পাউবোর অপরিকল্পিত নকশা ও দুর্নীতির কারণেই আজ কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাঁধ দেওয়া হয়েছে আমাদের ফসল রক্ষার জন্য। কিন্তু এখন সেই বাঁধই আমাদের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি সরানোর পথ না থাকায় এখন আমাদের নিজেদেরই বাঁধ কাটতে হচ্ছে। এতে যেমন বাঁধের ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি আমাদের শ্রম ও অর্থ দুই-ই বৃথা যাচ্ছে।”
হাওরের বিশাল এলাকা বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত, যেখানে কচি বোরো ধানের চারাগুলো পানির নিচে লড়াই করছে। অপর দিকে নদীর শান্ত কিন্তু টইটম্বুর রূপ, যা মূলত পাহাড়ি ঢলের আগাম বার্তা দিচ্ছে। এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা অপরিকল্পিত বাঁধটিই এখন কৃষকের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে এবং ভবিষ্যতে এসব বাঁধে সুইসগেট স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা না নিলে দিরাইয়ের বোরো চাষিদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
(সুরমামেইল/আহমেদ হেলাল/এফএ)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি