কুলাউড়ায় শিশুদের উপবৃত্তির টাকা শিক্ষকের পকেটে

প্রকাশিত: ২:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০১৬

কুলাউড়ায় শিশুদের উপবৃত্তির টাকা শিক্ষকের পকেটে

Manual3 Ad Code

Kulaura

নিজেস্ব সংবাদদাতা : কুলাউড়া উপজেলায় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের উপবৃত্তির টাকা পকেটস্থ করেছেন শিক্ষকরা। উপবৃত্তির টাকা অর্থলোভী শিক্ষকদের পেটে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা লিখিত অভিযোগ করেছেন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসারের কাছে। এছাড়াও অভিভাবকরা এক প্রধান শিক্ষককে দু’ঘন্টা অবরুদ্ধ করার খবর পাওয়া গেছে।

Manual7 Ad Code

অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় যেসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তারা হলেন, উপজেলার কানাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোর্শেদ আহমদ, কুলাউড়া গ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাছনা বেগম, গৌড়করণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বাগৃহাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবলী রানী দে, লালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাবিদ আলী ও পাবই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এরমধ্যে কুলাউড়া গ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাছনা বেগমকে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা গত শনিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ২টায় দু’ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। এসময় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উক্ত ওয়ার্ডের সাবেক এবং বর্তমান মেম্বার উপস্থিত হলে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা শিশুদের টাকা ফেরত দাও, দিতে হবে বলে মিছিল দিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।

Manual7 Ad Code

Kulaura-PC-pic-2

অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, টাকা আত্মসাতের জন্য অসাধু এসব প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের কাছ থেকে চাহিদাপত্রে অতিরিক্ত ভীড়ের অযুহাতে আগেই স্বাক্ষর এবং টিপসই নিয়ে নেন। চাহিদাপত্রে শতভাগ টাকা লিখেই তাতে স্বাক্ষর ও টিপসই নেন। কিন্তু টাকা দেয়ার সময় প্রতিটি শিক্ষার্থীর অভিভাবককে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কম দেন। কোন কোন অভিভাবককে ১২০০ টাকার স্থলে ২০০ টাকা দিয়ে বাকি টাকা কোচিং ও বিভিধ খরছ হয়েছে বলে জানান শিকরা। এ থেকে অভিযুক্ত একেক জন শিক্ষক ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত আত্মসাৎ করেছেন।

Manual4 Ad Code

অভিভাবকরা শিক্ষকদের কাছে কম টাকা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে গৌড়করণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাদের সাথে অসদাচরণ করেন। নিরুপায় হয়ে অভিভাবকরা ফিরে যান। কুলাউড়া গ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করার পর স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির মাধ্যমে ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের কিছু টাকা ফেরৎ দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন, কিন্তু অভিভাবকরা তা মেনে নেননি। অভিভাবক শান্তী রানী কর, শাহ আলম, আনোয়ারা বেগম, রীতা রানী দাসসহ অনেকেই বলেন, আমরা এসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন করেছি।

এব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শরিফ উল ইসলাম জানান, কিছু অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। এব্যাপারে তদন্ত করতে আমরা আগামীকাল  অভিযুক্ত স্কুলগুলোতে যাব। তদন্তে প্রমানিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code