সিলেট ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০২৪
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ও পরাজিত দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১০৪ রাউন্ড রাবার বুলেট, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
বুধবার (১০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনকে আটক করে পুলিশ। পাশাপাশ ৩টি রামদা, পিস্তল থেকে ছোঁড়া একটি পরিত্যক্ত গুলি এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে মাসুদ রানা সোহাগ নামের এক সংবাদকর্মী সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে আহত হন। এ সময় তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি বিনষ্ট হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভোট গ্রহণের দিন রোববার (০৭ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে সদর ইউনিয়নের সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের মূল ফটকের সামনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুহিবুর রহমান মানিক (নৌকা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী (ঈগল) সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার জেরে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব মাছিমপুর গ্রামের আমরু মিয়ার পুত্র ইমরান আহমদ, শামীমসহ ২৫/৩০ জন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আবুল মিয়ার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় ভাতিজাকে রক্ষা করতে গেলে দোয়ারাবাজার প্রেসক্লাব সেক্রেটারি সাংবাদিক আশিক মিয়ার উপরও আক্রমণ করে। উপুর্যপরি মারপিটে ঘটনাস্থলে মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটে পড়েন যুবলীগ নেতা আবুল মিয়া ও সাংবাদিক আশিক মিয়া। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে এবং নৈনগাঁও গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে পুলিশ সংঘর্ষ প্রতিহত করতে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুলিশের রাবার বুলেটে গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ৩০/৩৫ জন। গুরুতর আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আহত আবুল মিয়া বলেন, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সদরে আমার বাসার সামনে গেলে পূর্ব মাছিমপুর গ্রামের আমরু মিয়া দুই পুত্রসহ আগে থেকে ওতপেতে থাকা ঈগল প্রতীকের ২৫/৩০ জন সমর্থক অতর্কিতভাবে আমার উপর হামলা চালায় এবং আমরুমিয়ার পুত্র শামীম আমাকে লক্ষ্য করে তার হাতে থাকা অবৈধ পিস্তল থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে। এসময় আমার মোবাইল, পকেটে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। আমাকে বাঁচাতে এলে আমার চাচা সাংবাদিক আশিক মিয়াকেও পেছন দিক থেকে হামলা চালিয়ে মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত জখমি করে। পরে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বদরুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক কাউকে আটক করা হয়নি। তবে কত রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে এখন সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
(সুরমামেইল/এসডি)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি