সিলেট ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটে এক নারী গৃহ পরিচারিকাকে প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ণণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ধর্ষণকারীর সাথে জড়িত অপর এক নারী সহযোগীসহ চার জনের নামে সুনামগঞ্জের হতদরিদ্র পরিবারের পাঁচ সন্তানের জননী ভিকটিম সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) দক্ষিণ সুরমা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলো- সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার নভাগ কামালবাজার গ্রামের মৃত আবু সালের ছেলে আবু সালমান ওরফে আবুল, একই গ্রামের মৃত মহিবুর রহমানের ছেলে মতিউর রহমান নাজমুল, মৃত আব্দুল হান্নান ওরফে সন্দ’র ছেলে ফাহিম ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আরশ আলীর স্ত্রী মাহমুদা বেগম।
অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মিজানুর রহমান। তিনি জানান, ওই নারী ভিকটিম গত শনিবার (২১ জুন) থানায় চারজনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভিকিটিম ও থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে- সুনামগঞ্জের দূর্গম গ্রামের হত দরিদ্র পরিবারের পাঁচ সন্তানের জননী স্বামী পঙ্গু হওয়ার কারনে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের অপর নারী গৃহপরিচারিকা মাহমুদার সাথে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার একই বাসায় গৃহ পরিচারিকার কাজ করতেন।
কাজ শেষে ভাড়া বাসায় ফেরার পথে গত ১৮ জুন (বুধবার) রাত ৯টার দিকে অন্য একটি বাসায় কাজের কথা বলে মাহমুদা অপর তিন ব্যক্তির সাথে সঙ্গে থাকা অপর সহকর্মী নারী গৃহ পরিচারিকাকে তুলে দেন প্রাইভেটকারে। ওই কারের ভেতরই ওই নারীর সাথে আপত্তিকর প্রস্তাবসহ তিন আরোহী শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে জোরপূর্বক কয়েক দফা শ্লীলতাহানী ঘটায়।
ওই রাতে ঘন্টা খানেক প্রাইভেটকার চালিয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাথরুমের পাশে ওই নারীকে জোরপূর্বক নামানো হয়। এরপর দুই সহযোগীকে অদুরে পাহাড়ায় রেখে আবু সালমান ওরফে আবুল ওই নারীকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে।
এক পর্যায়ে পাহাড়ায় থাকা অপর দু’জন ফের ধর্ষণের চেষ্টা করলে ওই নারী কান্নাকাটি, চিৎকার শুরু করলে নারীকে বিদ্যালয়ের বাথরুমের পাশে ফেলে রেখে আবু সালমান ওরফে আবুল তার সহযোগীদের নিয়ে প্রাইভেটকারে বীরদর্পে চলে যায়।
ভিকিটিম ভাড়া বাসায় ফিরে পরিবারের লোকজন, স্থানীয় লোকজনকে ধর্ষণের ঘটনাটি অবহিত করেন।
এরপর পরিবারের লোকজন গত শুক্রবার (২০ জুন) সিলেট এমজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিজ সেন্টারে চিকিৎসার জন্য ভিকটিমকে ভর্তি করানো হয়। টিকিৎসা গ্রহন, ডাক্তারী পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২১ জুন (শনিবার) ভিকিটিমকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিলে ভিকটিম ওই দিনই দক্ষিণ সুরমা থানার ওসির নিকট ধর্ষণকারী, তার সহযোগীসহ চার জনের নামে লিখিত অভিযোগ করেন।
রাতে সিলেট এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগে একাধিক ব্যক্তির নাম থাকায় তদন্তে সম্পৃক্ততা পেলে পরবর্তীতে থানায় মামলা রুজু করা হবে।
(সুরমামেইল/এইচএসএ)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি