ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও কেন ফিকে হয়ে যায় দাম্পত্য?

প্রকাশিত: ১:৩১ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২৬

ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও কেন ফিকে হয়ে যায় দাম্পত্য?

Manual1 Ad Code

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
বিয়ের ৫ বছর, ১০ বছর, ২০ বছর, কিংবা ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে। একসঙ্গে সংসার, সন্তান, সুখ-দুঃখ—সবই আছে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, এ যেন এক আদর্শ দম্পতি। কিন্তু ঘরের ভেতরে? কথা কমে গেছে। হাসি আগের মতো নেই। ছোট ছোট বিষয়েও বিরক্তি জমে ওঠে। কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে চান না, অথচ কেউই আগের মতো কাছে নেই।

 

অদ্ভুত এই অবস্থার নাম হতে পারে- দাম্পত্যের ক্লান্তি।

 

এটা কোনও বড় ঝড় নয়। এখানে বিশ্বাসঘাতকতা নেই, বড় কোনও সংকটও নাও থাকতে পারে। কিন্তু ধীরে ধীরে সম্পর্কের ভেতর থেকে হারিয়ে যেতে থাকে উষ্ণতা। আর অনেক সময় এর পেছনে থাকে কয়েকটি অভ্যাস, যেগুলো অজান্তেই বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠে।

 

কথা না বলার অভ্যাস

নীরবতা সবসময় শান্তির লক্ষণ নয়। অনেক দম্পতি আছেন, যারা আর তর্ক করেন না। কিন্তু তারা আর মন খুলেও কথা বলেন না। কারণ, কোন বিষয়ে কথা বললে ঝামেলা হবে, সেটা তারা জানেন। তাই এড়িয়ে যান।

 

একসময় দেখা যায়, সংসারের সব কাজ ঠিকঠাক চলছে, কিন্তু নেই কথোপকথন। নেই অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার জায়গা।

Manual2 Ad Code

 

অথচ সম্পর্ক টিকে থাকে শুধু সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার মাধ্যমে নয়; টিকে থাকে স্মৃতি, স্বপ্ন, কৌতূহল আর ছোট ছোট অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে।

 

ছোট বিষয় নিয়ে বড় বিরক্তি

খোলা না রাখা পর্দা, সিঙ্কে ফেলে রাখা কাপ কিংবা একটি কথা ভুলে যাওয়া—এগুলোই অনেক সময় বড় ঝগড়ার কারণ হয়ে ওঠে।

 

আসলে সমস্যা জিনিসগুলো নয়। সমস্যা হলো সেই বিরক্তির স্তূপ, যা জমতে জমতে সম্পর্কের ভেতর অস্বস্তি তৈরি করে। কিছুদিন পর মনে হয়, সঙ্গী আর সঙ্গী নেই; তিনি যেন শুধু ভুল করা একজন মানুষ। অথচ অনেক ছোট বিষয় ক্ষমা করা যায়। আবার ভালোবাসা দিয়েও মনে করিয়ে দেওয়া যায়।

 

পুরোনো ক্ষত বারবার ফিরিয়ে আনা

কোনও ভুল, কোনও কষ্ট বা বিশ্বাসভঙ্গ—বছরের পর বছর ধরে বুকের ভেতর জমে থাকতে পারে। কিন্তু প্রতিটি নতুন ঝগড়ায় যদি পুরোনো ক্ষত সামনে চলে আসে, তাহলে বর্তমানের সমস্যার সঙ্গে অতীতের ব্যথাও যোগ হয়। তখন মানুষ শুধু বর্তমানের জন্য কষ্ট পায় না, বহু আগের ঘটনাগুলোও আবার নতুন করে বেঁচে ওঠে।

 

সব ক্ষত হয়তো পুরোপুরি মুছে যায় না। কিন্তু সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হলে কিছু ব্যথাকে অতীতেই রেখে আসতে হয়।

 

সঙ্গীকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা

“ও যদি একটু বদলাত!” দাম্পত্যের সবচেয়ে সাধারণ আক্ষেপগুলোর একটি এটি। কেউ চান সঙ্গী আরও দায়িত্বশীল হোক, কেউ চান আরও যত্নশীল, কেউ চান কোনো খারাপ অভ্যাস ছেড়ে দিক। কিন্তু সত্যিটা হলো—আপনি কাউকে বদলাতে পারবেন না, যদি সে নিজে বদলাতে না চায়।

Manual4 Ad Code

 

আপনি উৎসাহ দিতে পারেন, পাশে থাকতে পারেন, নিজের সীমারেখা তৈরি করতে পারেন। কিন্তু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অন্য মানুষেরই। আর সেই সত্য মেনে নেওয়াটাও অনেক সময় ভালোবাসারই অংশ।

 

মুখে হাসি, ভেতরে ক্ষোভ

Manual4 Ad Code

অনেক সম্পর্ক বাইরে থেকে খুব সুন্দর দেখায়। স্বামী-স্ত্রী হাসছেন, অতিথিদের সঙ্গে গল্প করছেন, সামাজিক মাধ্যমে ছবি দিচ্ছেন। কিন্তু ভেতরে জমে আছে অপমান, কষ্ট আর অভিমান।

Manual3 Ad Code

 

কেউ হয়তো সঙ্গীর কথায় আঘাত পেয়েছেন, কিন্তু কিছু বলেননি। কেউ হয়তো প্রকাশ্যে ছোট হয়েছেন, কিন্তু পরে আর আলোচনা করেননি। সমস্যা হলো, চাপা দেওয়া অনুভূতি কখনও হারিয়ে যায় না। সেগুলো জমতে থাকে। আর একসময় ছোট একটি ঘটনাও বড় বিস্ফোরণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

 

তাহলে কী করা যায়?

দাম্পত্যের ক্লান্তি একদিনে তৈরি হয় না। তাই একদিনে তা দূরও হয় না।

 

কিন্তু শুরুটা হতে পারে খুব ছোট একটি জায়গা থেকে— আবার কথা বলা; শুনতে শেখা; পুরোনো ক্ষতকে সবসময় সামনে না আনা; সঙ্গীকে বদলানোর চেয়ে তাকে বোঝার চেষ্টা করা।

 

কারণ, অনেক সম্পর্ক ভেঙে যায় না ভালোবাসা ফুরিয়ে যাওয়ায়। ভেঙে যায় তখনই, যখন দুই মানুষ একই ছাদের নিচে থেকেও ধীরে ধীরে একে অপরের কাছে পৌঁছানোর পথ হারিয়ে ফেলেন। আর সেই পথটা, চাইলে, আবার খুঁজেও পাওয়া যায়।

 

(সুরমামেইল/এএইচএম)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code