সুনামগঞ্জে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করে শ্বশুরকে হত্যা, পুত্রবধূসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত: ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৬

সুনামগঞ্জে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করে শ্বশুরকে হত্যা, পুত্রবধূসহ গ্রেপ্তার ৩

Manual8 Ad Code

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
জেলার দোয়ারাবাজার এলাকায় পুত্রবধূকে জমিজমা লিখে না দেওয়ায় ভাড়াটে খুনি দ্বারা শ্বশুরকে খুন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুত্রবধূসহ তিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নিহতের পুত্রবধূ ও হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী প্রবাসী ইসমাইল মিয়ার স্ত্রী হোসনা বেগম (৩৮)। ভাড়াটে খুনি এলাকার খাইরুল ইসলামের ছেলে রুহুল আমিন (২২) ও মৃত আব্দুল কুদ্দুসের পুত্র নজরুল ইসলাম (২০)।

 

Manual7 Ad Code

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দোয়ারাবাজার থানার ২নং নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে গত ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) রাত ১২টার দিকে নিজ শয়নকক্ষে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামের ওই বৃদ্ধকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

 

ঘটনার পর নিহতের নাতনি মোছাঃ আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। অভিযোগের পর পুলিশ তদন্তে নামলে হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়।

 

পুলিশ জানায়, বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে নিজ ভিটায় বসবাস করে আসছিলেন। তবে তার জমির মালিকানা পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও সৌদি আরব প্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়াকে লিখে না দেওয়ায় তাদের মধ্যে পারিবারিক কোন্দল তীব্র হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে হোসনা বেগম ও ইসমাইল মিয়া সুপরিকল্পিতভাবে বৃদ্ধকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হোসনা বেগম তার দূরসম্পর্কের ভাগ্নে রুহুল আমিনকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে শ্বশুরকে হত্যার দায়িত্ব দেন।

Manual7 Ad Code

 

​চুক্তিমতো ঘটনার রাতে বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী নিজ ঘরে ঘুমাতে গেলে হোসনা বেগম ঘরের পেছনের দরজা খুলে দেন। এরপর রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধের গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে দুই দিক থেকে টেনে শ্বাসরোধে হত্যা নিশ্চিত করে সটকে পড়ে।

 

​পরদিন ১৫ আগস্ট সকালে হোসনা বেগম ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার চালান এবং তড়িঘড়ি করে দাফনের আয়োজন করেন। কিন্তু নিহতের মুখে রক্ত ও গলায় স্পষ্ট কালো দাগ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেন।

 

দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠায়। পরবর্তীতে হোসনা বেগমকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি চুক্তির মাধ্যমে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন।

Manual4 Ad Code

 

গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি।

Manual1 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এসডি)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code