সিলেট ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২৬
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
জেলার আজমিরীগঞ্জে কিশোরী অপহরণের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি শোয়েব মিয়াকে (৩২) সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। একই অভিযানে অপহৃত কিশোরীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার শোয়েব মিয়া আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সিকান্দরপুর গ্রামের মৃত ইস্তার মিয়ার ছেলে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় এসআরবি-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বিষয়টি জানিয়েছেন।
এসআরবি-৯ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে গোপন সংবাদে এসআরবি-৯ সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প ও সিপিএসসি সিলেটের একটি যৌথ আভিযানিক দল সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের মুল্লাপাড়া গ্রামের জনৈক আহাদ মিয়ার বসতবাড়িতে অভিযান চালায়।
অভিযানে আজমিরীগঞ্জ থানায় কিশোরী অপহরণের ঘটনায় করা মামলার ১নং পলাতক আসামি শোয়েব মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। একই সময় অপহৃত কিশোরীকেও উদ্ধার করা হয়। পরে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতার শোয়েব মিয়াকে আজমিরীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপহৃত কিশোরী আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সিকান্দরপুর এলাকার বাসিন্দা। তার সঙ্গে শোয়েব মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে শোয়েবের পরিবারকে জানানো হলেও তারা সহযোগিতা না করে উল্টো কিশোরীর পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয় প্রদর্শন করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই মধ্যে গত ২১ জুলাই রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে কিশোরী ঘর থেকে বের হলে শোয়েব মিয়া অন্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তাকে ফুসলিয়ে অপহরণ করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে শোয়েবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা। এ সময় কিশোরীকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরে আবারও কিশোরীকে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে শোয়েবের পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা আজমিরীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার পর আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যে সিলেটের ওসমানীনগরে অভিযান চালিয়ে শোয়েব মিয়াকে গ্রেফতার এবং কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
(সুরমামেইল/এমএকে)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি