২ হিন্দু পরিবারের ৮ সদস্য নিখোঁজ, আতঙ্ক

প্রকাশিত: ৪:২৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০১৬

২ হিন্দু পরিবারের ৮ সদস্য নিখোঁজ, আতঙ্ক

Manual4 Ad Code

download

সুরমা মেইল ডেস্ক : রংপুরে দুইটি হিন্দু পরিবারের আট সদস্য এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার সদ্য পুষ্করণী ইউনিয়নের ভুরাঘাট ফতেপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

Manual8 Ad Code

জানা গেছে, ফতেপুর গ্রামের মৃত সহোদর মদকের ছেলে শংকর মদক (৪৫)  ও পরী মদক (৩৮) দুই ভাই। শংকর কাজ করেন রাজমিস্ত্রির। তিনি স্ত্রী জলেশ্বরী, ছেলে দীপ্ত (১৫) ও দীপুকে নিয়ে বাড়িতেই থাকতেন।

পরী মদক ও স্ত্রী সরস্বতী তিন বছরের ছেলে অপুকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন। পরী মদক নগরীর একটি গ্যারেজে মিস্ত্রির কাজ করেন। তাদের বসতভিটা ১৮ শতক জমির ওপর। বাড়ির পাশেই একটি পুকুর রয়েছে। তিনটি গরুসহ হাঁস-মুরগিও রয়েছে বেশকিছু। গত ২৭ জুলাই সকালে সাত সদস্যসহ ওই পরিবারটি নিখোঁজ হয়ে যায়। বাড়িতে শুধু রয়েছে সত্তর বছর বয়সী মা যমুনা রানী।

যমুনা রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ওই দিন সকালে শংকর ও পরী কাজে যায়। তার পর কখন যে ছেলের বৌ ও তাদের সন্তানরা নিখোঁজ হয় তা তিনি জানেন না। শংকরের বড় ছেলে দীপ্ত ভুরারঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।

তারা ভারতে চলে গেছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে যমুনা রানী বলেন, ‘ভারতে আমাদের কেউ নেই। যাওয়ার মত টাকা পয়সাও তাদের নেই। ভারতে যাবে বিশ্বাস হচ্ছে না।’

Manual7 Ad Code

তিনি আরও জানান, তার ছোট ছেলে তৈলক্ষ্য ১৫ বছর আগে ৭ বছর বয়সে  নিখোঁজ হয়। সেও আর ফিরে আসেনি। তাদের কোনো শত্রু নেই। কেন এমন হলো- এ নিয়ে তিনি খুবই চিন্তিত। তার আশঙ্কা, দেশের যে অবস্থা তাতে অন্য কিছু হতে পারে।

থানায় অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি বৃদ্ধ মানুষ। কাকে নিয়ে থানায় যাব, কাকে নিয়ে অভিযোগ করব। আমার তো কেউ নেই।’

Manual3 Ad Code

শংকরের প্রতিবেশী কর্ণধার বর্মণ হরিপদ জানান, ওরা দিন আনত দিন খেত। ওদের কোনো শত্রু নেই। কেন ওরা নিখোঁজ হলো এর কোনো কারণ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। গ্রামের অনেকে জানান, তারা হয়তো পরিবার পরিজন নিয়ে অবৈধ পথে ভারতে চলে গেছেন।

এদিকে শংকরদের প্রতিবেশী ধীরেন চন্দ্রের ছেলে সজল ওরফে সবুজ নিখোঁজ হয়েছে মঙ্গলবার সকালে। ভুরারঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সে।

সজলের বাবা জানান, শংকরের ছেলের সঙ্গে একই ক্লাসে পড়ত সজল। মঙ্গলবার সকালে শুধু একটি ট্রাউজার পরে খালি হাতে বের হয় সজল। তিনি ধারণা করছেন, কেউ সজলকে অপহরণ করেছে।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) অজিজুল ইসলাম জানান, শংকরসহ তার পরিবারের সাত সদস্য নিখোঁজের বিষয়ে এখনও কেউ অভিযোগ করেননি। তবে সজলের বিষয়ে একটি জিডি করা হয়েছে। পুলিশ সবগুলো বিষয় আমলে নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code