ধারাবাহিক উপন্যাস : ভবঘুরে ( ১ম পর্ব)

প্রকাশিত: ৬:১১ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৬

ধারাবাহিক উপন্যাস : ভবঘুরে ( ১ম পর্ব)

Manual1 Ad Code

UPfinaL

আহসান আহসানুল হাবিব’র ভবঘুরে (১ম পর্ব)  ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব গুলো পড়তে চোখ রাখুন ‘সুরমা মেইল’র সাহিত্য পাতায়।

Manual4 Ad Code

ঘুমন্ত হাতটি অন্ধের মতো টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল। গন্তব্য রাতে কিনা সিগারেটের প্যাকেট। প্রতিদিন সকালটা শুরু গত রাতের কিনা প্যকেটের শেষ সিগারেট দিয়ে।  বছর দশেকের অভ্যাস, সকালের জন্যে একটা সিগারেট রেখে দেয়া। এতে করে গত রাতের আমেজে শুরু হয় নতুন আরেকটি সকাল। আর এভাবে গতদিনগুলোর স্মৃতি নতুন দিনগুলোতে বয়ে বেড়াই। মাঝে মাঝে মনে হয় অন্ধ হয়ে গেলে সিগারেটের প্যাকেট কোথায় আছে খুজে পেতে সমস্যা হবে না, দশ বছরের প্রেমতো। এই দশ বছরে দুইজন প্রয়সী প্রেমে পড়েছিল। তাদের দুইজনের মিল এক জায়গাতেই। তারা  তামাকজাত দ্রবকে  নিজেদের সতীনের সমকক্ষ মনে করত। দুইজনের পরিণতি একই। দিন শেষে যে যার গন্তব্যে  চলে গেছে, যাওয়ার সময় সতীনের সাথেই রেখে গেছে আমাকে। তমা অবশ্য ছেড়ে চলে যায় নি। আমি নিজেই তমার সীমানা থেকে নিখোজ হয়ে গেছি। প্রমিকা আর সিগারেটের মাঝে পার্থক্য একটাই। প্রেমিকারা ছেড়ে চলে যায় আর সিগারেট সাথী হয়ে থাকে। তাই এখন পকেটে সিগারেট না থাকলে নিজেকে বড় নিঃসঙ্গ মনে হয়।

আয়নায় মুখ দেখতে দেখতে সিগারেটে আগুন লাগালাম। আয়না যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি আমি। আমি নিয়ন। সারা রাত জেগে থাকি বলে নিজেই নিজের নাম দিয়েছি নিয়ন। নামটার  মাঝে একটা ক্যামেষ্ট্রি ক্যামেষ্ট্রি গন্ধ আছে। তবে রস কিংবা রসায়নের কোন ছোঁয়াই নেই  আমার মাঝে। রসকষহীন মানুষ।  হাজার মাইল উপরের আকাশ থেকে এয়ারপোর্টের রানওয়েতে যে নিয়ন বাতি দেখা যায় কিন্তু ছোঁয়া যায় না আমি হয়তো সেই নিয়ন, নিয়ন আলো।  বাবা মায়ের দেওয়া ভালো নাম রাফিউল হাসান। মা সারা জীবন বকে গেছে অমানুষ জন্ম দিয়েছি একটা। কিন্তু আয়নাতে তো আমি নিজেকে মানুষের আকৃতিতে দেখতে পাই। সবার মতো আমার দুইটা হাত দুইটা পা আর মুখে ভবঘুরের মতো দাড়ি। তাহলে কি আমার ভিতরের মানুষটা অমানুষ?  সেই অমানুষটা কে আয়নাতে দেখা যায় না কেন?  মনের মানুষকে নাকি চোখে দেখা যায়। এজন্যেই আমার ভিতরের অমানুষকে সানগ্লাস দিয়ে মুড়ে রাখি। বন্ধুরাতো চুতিয়া বলে, বৃষ্টি বলতো শ্যাওলা। বৃষ্টি আমার প্রথমা। একজন বিশিষ্ট ঠান্ডা মেজাজী ভদ্রা মহিলা যিনি আমাকে ছেড়ে গিয়ে এই পৃথিবীর মায়ায় কি করে বাচতে হয়  শিখিয়েছেন। আমি একটা মানুষ কিন্তু একেক  জন  একেক  ভাবে সংজ্ঞা দিয়ে যায়। অথচ আমি নিজেই নিজের সংজ্ঞা আজো দাড় করাতে পারলাম নাহ।

পৃথিবীটা বড়ই আজব। মানুষ নিজেকে নিয়ে না ভেবে সব সময় অন্যকে নিয়ে চিন্তিত। অন্যকে নিয়ে এই ভাবনার জগতে পড়ে থাকাকে কি বলে? ভালোবাসা?? নাকি আমি নিজেকে নিয়ে ভাবতে ভালোবাসি স্বার্থপর বলে?

Manual4 Ad Code

মানব সন্তানেরা  অভ্যাসের দাস। আমিও দাস হয়ে গেছি অভ্যাসের কাছে। প্রকৃতির ডাকের জন্যে সিগারেটের ধারস্থ হই প্রতিদিন সকালে। কেউ কেউ বলে এটা  এক প্রকার মানষিক রোগ। কিন্তুআমার দৃঢ় বিশ্বাস পেটে চাপ প্রয়োগের জন্যে সিগারেট একটি মহা-ওষুধ। যেকোন মনোরোগের জন্যে কোন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাবার প্রয়োজন নেই। মানুষ নিজেই তার মনের বড় ডাক্তার। তাই আমার এই রোগ মনের হোক আর শারীরে হোক এর জন্যে আমি প্রেস্ক্রাইব করেছি  নিকোটিনের ধোয়া। আমরা সব সময় মনের উপর জোর চালিয়ে ভালো হওয়ার চেষ্টা করি। মন কি চায় তা ঠিকভাবে বুঝার  না করে ভালো হওয়ার চেষ্টা করা এক  শ্রেণীর শিক্ষিত বোকার কাজ। বৃষ্টিও বুঝতে পারি নি হয়তো। বুঝতে পারলে আমার প্রেমে পড়তো না। বুঝতে পারে নি বলেই  বৃষ্টি আজ আকাশের গায়ে লেপ্টে আছে।

মেয়েরা সিরিয়াস টাইপ ছেলে পছন্দ করে স্বামী হিসেবে,  আর প্রেমিক হিসেবে পছন্দ করে ক্যাম্পাস মাতানো ভবঘুরে ফেমাস কাউকে। বছর চার আগেও খুব সকালে হল থেকে বেরিয়ে হাটতে হাটতে চলে যেতাম বৃষ্টির বাসার সমানে।  শিশির তুমি খুব ভালোবাসতে বৃষ্টি। তাই তোমার জন্যে নিয়ে যেতাম শিশিরে মাখানো নীল ঘাস ফুল। যেদিন নীল ঘাসফুল পেতাম না সেদিন নিতাম সবুজ ঘাস। সেটাও শিশিরের বিন্দুতে সাজানো । সবুজতো আমার প্রিয় রঙ, সবুজেরেই ভালোবাসি। নীল শাড়ি আর সবুজ পাঞ্জাবী পরেই আমাদের শহরান্তরি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিয়ের আসনে তুমি দশটা সাধারণ বাঙালি মেয়ের মতোই লাল শাড়ি বেছে নিলে।

বিয়ে শব্দটা তোমার আমার মাঝে কখনোই আনতে চাই নি আমি। বিশ্বাসে গড়া সম্পর্ক কি ধর্মের বাণী আর কাগজে কলমে কিছু পরিচিত মুখকে সাক্ষী করে পাকা করা যায় পুরোপুরি ?আমিতো বিশ্বাস করি না। কাগজ কলমে লিখলে কি নিজের বিশ্বাসকে নিজেই ছোট করা হয় না? অবশ্য দোষ যে একার তোমার তাও না। ছোট বেলা থেকে  কিছু  নিয়ম  আমাদের আবধ্য করে রাখে একটি সাধারণ গন্ডির ভিতর। আমরা সবাই সেই সব নিয়ম নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারি না বলে সাধারণ রয়ে যাই আর যারা পারে তারা হয়ে উঠে অসাধারণ। অসাধারণদের আবার কিছু সংস্কারপন্থীরা সমাজ বিচ্যুত করেন। তুমি আমি পারলেও হয়তো আমাদের অভিভাবকেরা পারে না। তাইতো বৃষ্টি  তোমার দেওয়া গ্যাস লাইট দিয়ে প্রতিদিন সকালে একটা করে সিগারেট জ্বালাই , আর তোমার ভুল গুলোকে জ্বেলে দেই নিকোটিনের আগুনে। অতঃপর সারা দিন আমার দিয়াশলাই দিয়ে সিগেরেট জ্বালিয়ে হেটে বেড়াই এই ভবঘুরে শহরে। দিয়াশলাইয়ের এক একটা কাঠি ধরে ধরে তুমি কি আমায় খুঁজে বের করতে পারবে তমা??

Manual8 Ad Code

আহসান আহসানুল হাবিব, সাহিত্য সম্পাদক, সুরমা মেইল ডটকম।  ( ………চলবে ……… )

Manual8 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code