শাহজালাল মাজার ও প্রবাসী পল্লী নিয়ে মেগা পরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত

প্রকাশিত: ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২৬

শাহজালাল মাজার ও প্রবাসী পল্লী নিয়ে মেগা পরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে দেশের ৯টি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানদের এক গুরুত্বপূর্ণ ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। বৈঠকে দেশের প্রধান প্রধান অঞ্চলের পরিকল্পিত নগরায়ণ, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

বৈঠকে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সিলেটের সার্বিক, পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেন। তিনি বিশেষভাবে আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, ধর্মীয় অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং প্রবাসীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

Manual4 Ad Code

কয়েস লোদী বলেন, ‘হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর পবিত্র মাজার শুধু সিলেট নয়, সমগ্র দেশের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিশ্বের নানা দেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত, পর্যটক ও দর্শনার্থী এই পবিত্র স্থানে আসেন। তাই মাজারকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত ও আধুনিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ সময়ের দাবি।’

 

তিনি প্রস্তাব করেন, মাজার এলাকার ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পনার মাধ্যমে পবিত্র মাজারের উন্নয়ন, একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক মসজিদ নির্মাণ, ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণার জন্য একটি আধুনিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্নত আবাসন ব্যবস্থা, বহুতল ভবন, প্রশস্ত গাড়ি পার্কিং, ওয়াজু ও স্যানিটেশন সুবিধা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ও নাগরিক অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে ধর্মীয় পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীরা আরও উন্নত পরিবেশে ইবাদত ও জিয়ারতের সুযোগ পাবেন এবং আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের মর্যাদা আরও সমুন্নত হবে।

 

এছাড়াও তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সিলেটে একটি অত্যাধুনিক ‘প্রবাসী পল্লী’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের জন্য পরিকল্পিত আবাসন, নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে সিলেটে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’

 

সিউকের চেয়ারম্যানের প্রস্তাবনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শোনেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সিলেটের এই মহাপরিকল্পনাগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়নের জন্য কয়েস লোদীকে নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সম্মতির ফলে সিলেটের পরিকল্পিত নগরায়ণ ও পর্যটন খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

Manual4 Ad Code

বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য চেয়ারম্যানবৃন্দ খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (খুউক) চেয়ারম্যান এস এম শফিকুর আলম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কক্সডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন,রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রউক) চেয়ারম্যান মো. সামসুজ্জামান সামু, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ময়উক) চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (নাউক) চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব।

 

Manual2 Ad Code

বৈঠক শেষে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানবৃন্দ দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Manual7 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এনআই)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code