ম্যাক্সওয়েল ঝড়ে উড়ে গেল আফগানরা

প্রকাশিত: ১১:৫২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০২৩

ম্যাক্সওয়েল ঝড়ে উড়ে গেল আফগানরা

Manual3 Ad Code

খেলাধুলা ডেস্ক :
কি অদ্ভুদ সুন্দর! আফগানিস্তানের দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দলীয় শতরানের আগেই ৭ উইকেট হারিয়ে যখন রীতিমতো ধুঁকছিল অজিরা, তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ব্যাট হাতে একাই লড়াই চালিয়ে রেকর্ড ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। সেই সঙ্গে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছেন এ ডানহাতি ব্যাটার।

 

মঙ্গলবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ৫০ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২৯১ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয় এড়িয়ে ৪৬.৫ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এ জয়ে চলমান আসরে সেমিফাইনালও নিশ্চিত করলো প্যাট ক্যামিন্সের দল।

 

রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় অস্ট্রেলিয়া। দলটির হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন ট্রাভিস হেড ও ডেভিড ওয়ার্নার। তবে ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই এ জুটিতে আঘাত হানেন নাভিন। একই ওভারে জীবন পান ওয়ার্নার।

 

Manual1 Ad Code

হেডের বিদায়ে উইকেটে আসেন মিচেল মার্শ। উইকেটে এসেই ঝড়ো গতিতে রান তুলতে থাকেন তিনি। তবে ম্যাচের ষষ্ঠ ওভারে তাকে থামিয়ে দেন নাভিন উল হক। আউট হওয়ার আগে ১১ বলে ২৪ করেন তিনি।

Manual4 Ad Code

 

এরপর বাইশ গজে আসেন মার্নাস লাবুশেনে। এর পরেই বোল্ড হন ওয়ার্নার। তার বিদায়ে ক্রিজে আসেন জস ইংলিশ। তবে তিনিও ব্যর্থ হয়ে ফিরেছেন। এরপর শুধু আসা-যাওয়ার মিছিলের যাত্রী ছিলেন ওয়ার্নার, লাবুশেনে, স্টার্করা।

 

তবে ক্রিজের একপ্রান্তে ব্যাট হাতে একাই লড়াই চালিয়ে যান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ম্যাচের ২১ ও ২২তম ওভারে পরপর দুইবার জীবন পেয়ে ঘুরে দাঁড়ান ম্যাক্সওয়েল। এরপর ধীরে ধীরে ইনিংস লম্বা করেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন এ ডানহাতি ব্যাটার।

 

তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অজি দলপতি প্যাট ক্যামিন্স। পরে ঝড়ো গতিতে রান তুলতে থাকেন ম্যাক্সওয়েল। শেষ মুহূর্তে ছক্কা হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিতের পাশাপাশি নিজের ডাবল সেঞ্চুরিও স্পর্শ করেন এ ব্যাটার।

 

দলের জয়ের রাতে ১২৮ বলে ২০১ রানে অপরাজিত ছিলেন ম্যাক্সওয়েল। যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অজি ব্যাটারদের মধ্যে প্রথম এবং রেকর্ডের তালিকায় তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। এমনকি ম্যাক্সওয়েলের নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারেরও সেরা ইনিংস এটি।

 

Manual6 Ad Code

এছাড়া রান তাড়ায় অষ্টম উইকেটে ম্যাক্সওয়েল-কামিন্সের ২০২ রানও অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ জুটি। এতে অ্যান্ড্রু হল ও জাস্টিন ক্যাম্প জুটির ১৩৮ রানের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন তারা।

 

এদিন আফগানিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট শিকার করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই, রশিদ খান ও নাভিন-উল-হক।

 

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আফগানিস্তান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদী। দলটির হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। এ দুই ব্যাটার নির্বিঘ্নে ৭.৫ ওভার কাটিয়ে দেন।

 

তবে অষ্টম ওভারের শেষ বলে হ্যাজেলউড ম্যাজিকে মিচেল স্টার্কের তালুবন্দী হন গুরবাজ। আউট হওয়ার আগে ২১ রান করেন এ আফগান ওপেনার।

 

পরে বাইশ গজে আসেন রহমত শাহ। তার সঙ্গে ৮৩ রানের জুটি গড়েন ইব্রাহিম জাদরান। ম্যাচের ২৫তম ওভারে ম্যাক্সওয়েলের ঘূর্ণিতে কাটা পড়েন রহমত। সাজঘরে ফেরার আগে ৩০ করেন এ ডানহাতি ব্যাটার।

 

এরপর ক্রিজে আসেন আফগান দলপতি হাশমতউল্লাহ শাহিদী। উইকেটে এসে থিতুও হন তিনি। তবে ব্যক্তিগত ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ম্যাচের ৩৮তম ওভার শাহিদীর স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেন মিচেল স্টার্ক।

 

আফগান দলপতির বিদায়ে উইকেটে আসেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ব্যাট হাতে ভালো শুরু পান তিনি। অবশ্য ২২ রানেই থামতে হয় তাকে। এরপর ক্রিজে আসেন মোহাম্মদ নবী। তবে ব্যর্থ হয়ে সাজঘরে ফেরেন এ অভিজ্ঞ ব্যাটার।

 

Manual3 Ad Code

অজি বোলারদের তুলোধুনো করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন ইব্রাহিম। আর শেষ মুহূর্তে ঝড়ো গতিতে রান তোলেন রশিদ খান। এতে আফগানদের ইনিংস থামে ২৯১ রানে।

 

এদিন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট শিকার করেন জস হ্যাজেলউড।

 

(সুরমামেইল/এএইচএম)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code