সুনামগঞ্জের শাল্লায় গ্রেনেড হামলার ১৫ বছর আজ

প্রকাশিত: ৩:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬

সুনামগঞ্জের শাল্লায় গ্রেনেড হামলার ১৫ বছর আজ

Manual8 Ad Code

images4সুরমা মেইল নিউজ :: আজ থেকে ১৫ বছর আগের এই দিনে সুনামগঞ্জের শাল্লায় আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা করতে গিয়ে গ্রেনেড বহনকারীসহ ৪ জন মারা যায়।

Manual4 Ad Code

এ ভয়াবহ গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে ২০০১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শেষ নির্বাচনী জনসভার পার্শ্ববর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কোয়ার্টারে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই আত্মঘাতী গ্রেনেড হামলার প্রস্তুতি ছিল বলে জানা গেছে। ওইদিন ভাগ্য ক্রমে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অবনি মোহন দাস জানান- ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে উপজেলা সদরের শাহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২৬ সেপ্টেম্বর শেষ নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করে।

শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিম চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বরুণ রায়, গোলাম রব্বানী ও তৎকালীন দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফায়েল আহমদ চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Manual6 Ad Code

তিনি জানান- সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সোয়া একটার দিকে জনসভা স্থলে পৌঁছার কথা থাকলেও তিনি এ সময় আজমিরিগঞ্জের তার আস্থাভাজন হিসিবে পরিচিত আফাই মিয়ার বাড়িতে যান। আফাই মিয়ার মৃত্যুতে তার পরিবারকে শান্তনা ও সমবেদনা জানিয়ে সাথে সাথেই শাল্লায় ফিরে আসেন এবং সোয়া ২টার দিকে জনসভাস্থলে পৌঁছেন।

এমন সময় জনসভাস্থলের পশ্চিম দিকে শাল্লা হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় সালাউদ্দিনের বাসার ভেতর গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে গ্রেনেড বহনকারী সালাউদ্দিনের শ্যালক আবদুল গাফফার ওরফে মুরাদ মিয়াসহ মোহন মিয়া, হামিদুল হক ও আশরাফুল ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এদের বাড়ি উপজেলার শ্রীহাইল গ্রামে, তবে মুল হোতা আবদুর গফফার ওরফে মুরাদ আজমিরিগঞ্জে সন্দেহ জনকভাবে চলাফেরা করতো বলে স্থানীয়রা জানান।

Manual5 Ad Code

পুলিশের ধারণা- ঘাতকরা সকাল থেকেই নৌকা প্রতিক সম্বলিত গেঞ্জি গায়ে পড়ে কৌশলে মিছিলের সাথে মিশে যায় এবং আত্মঘাতী হামলার প্রস্তুতি নেয় কিন্তু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নির্ধারিত সময়ে জনসভায় না-পৌঁছলে ঘাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ডবয় সালাউদ্দিনের বাসায় আশ্রয় নিয়েছিল এবং সেখানেই গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনায় ৪ জন মারা যায়। ঘটনাস্থল সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘিরে রাখে। এই ঘটনায় ওইদিনই শাল্লা থানার এসআই মুজিবুর রহমান বাদি হয়ে মামলা (নং-০২) দায়ের করেন।

শাল্লা থানার তৎকালীন ওসি আবদুল হামিদ মামলার প্রাথমিক তদন্ত করলেও পরবর্তিতে সিআইডি তদন্ত করে ২০০২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করে। চূড়ান্ত রিপোর্ট নং-০৫।

জানা গেছে- ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করার সুবাদে নাছির উদ্দিন চৌধুরী তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুর রহমান বাবরের শরণাপন্ন হয়ে আত্মঘাতী গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত ৪ ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে প্রধান আসামি করে অবনি মোহন দাস ও স্বপন মাস্টারসহ ৮-১০ জনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ৩ সদস্যের এক বিশেষ তদন্ত টিম সপ্তাহব্যাপী তদন্ত করে নাছির চৌধুরীর সেই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রতিয়মান হয়।

Manual7 Ad Code

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলছেন- স্বাধীনতা ও মানবতাবিরোধী জামায়াত-বিএনপি জোটের মদদে আমাকে হত্যা করার জন্যেই দিরাই ও শাল্লায় গ্রেনেড বোমা হামলা করেছিল। তারা দেশে বোমা ও গ্রেনেড হামলা করে রাজত্ব কায়েম করে দেশকে অন্ধকারে নিয়ে যেতে চাইছিল। ওদের দোসররাই জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করতে চায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code