বড় হারে বিশ্বকাপ শেষ পাকিস্তানের

প্রকাশিত: ১০:৪৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০২৩

বড় হারে বিশ্বকাপ শেষ পাকিস্তানের

Manual1 Ad Code

খেলাধুলা ডেস্ক :
কলকাতার বিখ্যাত ইডেন গার্ডেনসে আজকের ম্যাচ শুরুর আগে পাকিস্তানের সামনে সেমিফাইনালে যাওয়ার সমীকরণ অসম্ভবই ছিল। তবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার টস জেতার পরে সেই সমীকরণ অবাস্তব হয়ে ওঠে। সেমিফাইনালের আশা তখনই শেষ হয়ে গেলেও পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল জয় দিয়ে বিশ্বকাপের শেষটি রাঙানো। তবে তাতে ব্যর্থ বাবর আজমের দল। ইংলিশদের কাছে বড় পরাজয় ব্যর্থতার গ্লানি নিয়েই পাকিস্তান ফিরতে হচ্ছে তাদের। কলকাতা নিজেদের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ীরা পরাজিত হয়েছে ৯৩ রানে।

 

শনিবার (১১ নভেম্বর) বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৯৩ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের দেয়া ৩৩৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২৪৪ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান।

Manual6 Ad Code

 

৩৩৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে পাকিস্তান শুরুতেই হারায় আব্দুল্লাহ শফিককে। বিশ্বকাপের পরেই অবসরের ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন ডেভিড উইলি। সে হিসেবে আজ তার শেষ ম্যাচ। আর তিনি সেটা স্মরণীয় করে রাখলেন প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নিয়ে।

 

আশা ভরসার প্রতীক ছিলেন ফখর জামান। আগের দিন অসম্ভব লক্ষ্য তাড়ায় এই ব্যাটারের উপরেই নির্ভর করতে হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন বাবর আজম। হতাশ করেছেন তিনিও। ৯ বলে ১ রান করে উইলির দ্বিতীয় শিকার হন ফখর। এরপরে জুটি গড়েছেন পাকিস্তানের দুই বড় ভরসা বাবর আজম এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান। কিন্তু এই জুটিও আশার আলো দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। তৃতীয় উইকেটে ৫১ রান তোলার পরেই দলীয় ৬১ রানে ফিরে যান বাবর। গাস অ্যাটকিনসনের বলে আদিল রশিদের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

 

দলের রান যখন ঠিক ঠিক ১০০ তখনই মঈন আলীর বলে বোল্ড হন রিজওয়ান। পাকিস্তানের পরাজয় ততক্ষণে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে। এরপর সৌদ শাকিলের ২৯ রান পাকিস্তানকে দিয়েছে সাময়িক স্বস্তি। ইফতিখার আহমেদ ফিরেছেন ৩ রানে। শাদাব খানও ইনিংস বড় করতে পারেননি। মঈন আলী আর রশিদ খানের ঘূর্ণিতে তখন দিশেহারা পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ক্রিজে ছিলেন সালমান আগা। তার পঞ্চাশ পেরুনো ইনিংস নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের ৫ম স্থান। উইলির তৃতীয় শিকার হয়ে সালমান ফিরে গেলে পাকিস্তানের পরাজয় হয়ে যায় সময়ের ব্যাপার।

 

Manual5 Ad Code

শেষে এসে অবশ্য পাকিস্তানের দুই বোলার হারিস রউফ আর ওয়াসিম জুনিয়র শুরু করেন নতুন এক ঝড়। ৩৩ বলেই ৫৩ রানের জুটি গড়ে ফেলেন এই দুই বোলার। তাতে অবশ্য খুব একটা ক্ষতি হয়নি। পাকিস্তান ম্যাচ হেরেছে ৯৩ রানের ব্যবধানে।

 

এর আগে কলকাতায় ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ইংলিশদের ইনিংস থেমেছে ৩৩৭ রানে। এদিন টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু পায় ইংল্যান্ড। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৮১ বলে ৮২ রান। এই ম্যাচের আগেই অবসরের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন ইংলিশ ওপেনার ডেভিড মালান। নিজের সম্ভাব্য শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে বেয়ারস্টোর সঙ্গে জুটি গড়ে দেখেশুনেই খেলছিলেন। তবে ১৪তম ওভারে ইফতিখার আহমেদের বলে সাজঘরে ফেরেন ৩৯ বলে ৩১ রান করে। এরপর অবশ্য বেশিদূর এগোতে পারেননি জনি বেয়ারস্টো। ৬১ বলে ৫৯ করে হারিস রউফের বলে আউট হন ইংলিশ এই ওপেনার।

Manual3 Ad Code

 

বিশ্বকাপজুড়ে ইংল্যান্ডকে ভুগিয়েছে তাদের ব্যাটিং ব্যর্থতা। আজ যেন চেনা ছন্দে ফিরেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর তৃতীয় উইকেট জুটিতে জো রুট এবং বেন স্টোকস মিলে যোগ করেন ১৩১ বল থেকে ১৩২ রান করেন। তাতে দলীয় সংগ্রহ দুইশ ছাড়ায়।

Manual1 Ad Code

 

৪১ তম ওভারে শাহিন আফ্রিদি যখন ব্রেকথ্রু এনে দিলেন, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে পাকিস্তানের। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান স্টোকস এদিন ৭৬ বলে ৮৪ রান করেন। স্টোকসের পর রুটকেও সাজঘরে পাঠান শাহিন। শেষ পর্যন্ত হ্যারি ব্রুক (৩০ রান) ও অধিনায়ক জস বাটলারের (২৭ রান) ছোটখাটো ক্যামিওতে ইংল্যান্ডের রান তিনশ’ ছাড়িয়েছে।

 

ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৪ রান আসে স্টোকসের ব্যাট থেকে। আর পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চে ৩ উইকেট তুলে নেন হারিস রউফ ও ২টি করে উইকেট শিকার করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ওয়াসিম।

 

(সুরমামেইল/এএইচএম)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code