সিলেট ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৫৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫
মেইল ডেস্ক:
সময় থেমে থাকে না। বয়স বাড়ে, শরীর ক্লান্ত হয়। কিন্তু স্মৃতি কখনো বুড়ো হয় না। ঠিক সেই স্মৃতির হাত ধরেই সুরমা নদীর পাড়ে অবস্থিত সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আবার ফিরে এসেছিল ক্রীড়াঙ্গনের সোনালী সময়।
দুই দিনব্যাপী ‘মোজাহিদ আলী মাস্টার্স কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫’- আয়োজিত টুর্নামেন্টে মাঠে নেমেছিলেন চল্লিশোর্ধ্ব বয়সী সেই সব ফুটবলাররা, যাদের পায়ের জাদু এক সময় কাঁপিয়েছে দেশের মাঠ-গ্যালারি। বয়সের ভার থাকলেও চোখেমুখে ছিল চিরচেনা আত্মবিশ্বাস, আর পায়ে ছিল অভিজ্ঞতার ছাপ। মাঠে নামতেই বোঝা যাচ্ছিল, এটা শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়; বরং এটি স্মৃতির পুনর্জন্ম।
ফাইনালে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক সিলেট জেলা সোনালী অতীত ও মৌলভীবাজার জেলা সোনালী অতীত। মাঠে উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই হয়তো এক সময় এই খেলোয়াড়দের খেলা দেখেই বড় হয়েছেন। সেই দর্শকরাই আবার ফিরে পেয়েছেন তাদের প্রিয় নায়কদের।
ফাইনাল ম্যাচের প্রথমার্ধে ইমরাজ ইমুর দারুণ এক শটে উল্লাসে ফেটে পড়ে মাঠে ফুটবল প্রিয় দর্শকসারি। গোলটি শুধু একটি গোল ছিল না, ছিল অতীতের ঝলক। বিরতির পরও মাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে সিলেট। আর ম্যাচের শেষদিকে অধিনায়ক শাহাজ উদ্দিন টিপু যখন দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়ান, তখন মুহূর্তের জন্য সময় যেন পিছিয়ে যায়। অনেকের চোখে ভেসে ওঠে বাংলাদেশের জার্সিতে তাঁর করা সেই ঐতিহাসিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গোল্ডেন গোলের স্মৃতি।
ইমরাজ ইমু ও শাহাজ উদ্দিন টিপুর গোলে ২–০ ব্যবধানে জয় পেয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় সিলেট জেলা সোনালী অতীত। তবে হারলেও সম্মান হারায়নি মৌলভীবাজার সোনালী অতীত। একই দিনে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলতে হওয়ায় ক্লান্তি ছিল স্পষ্ট, তবুও তারা লড়াই চালিয়ে গেছেন শেষ বাঁশি পর্যন্ত।
এই টুর্নামেন্টে ফুটবল ছিল উপলক্ষ, আসল জয় ছিল স্মৃতির। মাঠে খেলোয়াড়েরা যেমন ফিরে গিয়েছিলেন তাদের যৌবনে, তেমনি দর্শকরাও ফিরে গিয়েছিলেন নিজেদের কিশোর-যৌবনের দিনে। যখন ফুটবল ছিল আবেগ, ছিল পরিচয়।
খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ট্রফি তুলে দেন টুর্নামেন্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আলহাজ্ব মোজাহিদ আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুব আলম পলো, প্রবাসী কমিউনিটির পরিচিত মুখ জুলিয়ান আলী, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক হাজ্বী মিলাদ আহমদসহ আরও অনেকে।
সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা সোনালী অতীতের সভাপতি কামরুল হাসান এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহ-সভাপতি মান্না চৌধুরী।
মোজাহিদ আলী মাস্টার্স কাপ ২০২৫ প্রমাণ করেছে, বয়স শুধু একটি সংখ্যা। ভালোবাসা আর স্মৃতি থাকলে ফুটবল কখনো পুরোনো হয় না। সুরমার পাড়ে সেই দুই দিনে ফুটবল আবার ফিরে পেয়েছিল তার সোনালী অতীত।
(সুরমামেইল/এমকে)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি