৯-৩৫ পেঁয়াজের ফটকাবাজি রোখা খুবই কঠিন!

প্রকাশিত: ৮:৩২ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০১৬

৯-৩৫ পেঁয়াজের ফটকাবাজি রোখা খুবই কঠিন!

Manual6 Ad Code

images (1)

Manual7 Ad Code

সুরমা মেইল নিউজ : ভারত থেকে আমদানিকৃত পিঁয়াজ বাংলাদেশে বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে এ পিঁয়াজ আনছেন আট রুপি (৯ টাকা ৩৮ পয়সা) দরে। দামের এ হেরফের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কলকাতার শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা।

পত্রিকাটিতে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দামে এত ঝাঁঝ কোন যুক্তিতে? শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুচরা বিপণনে দাম বেশি হয়। তাই বলে আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে এতটা পার্থক্য মেনে নেয়া যায় না। পত্রিকাটির মতে, শুল্ক মূল্য ধরে বাংলাদেশে ভারতীয় পিঁয়াজ প্রতি কেজি ১৬ রুপি দরে বিক্রি হওয়া উচিত। কেননা কলকাতায় এখন এ পণ্যটি ১৬ রুপি কেজিতেই পাওয়া যাচ্ছে।

এ ঘটনাকে প্রতিবেদনে ফটকাবাজি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পেঁয়াজের ফটকাবাজি রোখা খুবই কঠিন।

Manual8 Ad Code

নিজেদের পিঁয়াজের গুণগান করে পত্রিকাটি বলছে, বাংলাদেশে যে পিঁয়াজ হয় তার সাইজ ছোট। মশলাদার ভারি রান্নায় চলে না। দরকার নাসিকের (মহারাষ্ট্র এলাকা) পিঁয়াজ। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশে দেশি পিঁয়াজের কদর সবসময়ই বেশি। ভারতীয় বড় বড় পিঁয়াজ সিদ্ধ হয় না বলে অনেক গৃহিনী রান্নায় এটি ব্যবহার করতে চান না। তবে সালাদ হিসেবেই এটি ভালো।

বাংলাদেশে বর্তমানে এই দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা কেজিতে। এবছর এর উৎপাদন ভালো। বাংলাদেশে বছরে পিঁয়াজের চাহিদা রয়েছে ২২ লাখ টন। এবছর উৎপাদন হয়েছে ১৭ লাখ টন। ফলে আমদানি করতে হবে মাত্র পাঁচ লাখ টন।

পিঁয়াজের যোগান যথেষ্ট হওয়া সত্ত্বেও এর উচ্চমূল্য মেনে নিতে পারছে না আনন্দবাজার। তাদের আপত্তির কারণ হয়ত বা ভারতের বাজারের পিঁয়াজের দাম পড়ে যাওয়া। এবার ফলন ভালো হওয়ায় পিঁয়াজ বেচে উৎপাদন খরচটাও ওঠাতে পারছে না ভারতীয় চাষীরা। অন্যদিকে বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।

এ নিয়ে আক্ষেপ করে আনন্দবাজারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজান মাসে পেঁয়াজের চাহিদা বাড়বে। তার আগেই ১০ শতাংশ দাম বৃদ্ধি। আগেভাগে দাম বাড়িয়ে মুনাফার গ্যারান্টি। রসুনও নাগালের বাইরে। বাংলাদেশের রসুন ১০০ টাকা কিলো। চিনের রসুন ২০০। দামের ফারাক গুণগত কারণে। তা হলেও, চিনের রসুন এতটা ওপরে উঠবে কেন। চিন থেকে আমদানি ১৩০ টাকায়। সেখানেও যুক্তি, পেঁয়াজের চেয়ে রসুনের বিক্রি কম। এক কেজি পেঁয়াজ নিলে রসুন নেয় ১০০ গ্রাম। এত কম বিক্রিতে দাম একটু বেশি না হলে নাকি চলে না। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথায় কে পারবে। তারা বাজারে নামে কোমর বেঁধে। ক্রেতারা শরমে মরে।

রমজানে সবচেয়ে বেশি দরকার ডাল, ছোলা, চিনি, পিঁয়াজ, রসুন, খেজুর। তাদের দেমাক দেখে কে। খেজুরের মেজাজ বোঝা দায়। ১২০ থেকে বেড়ে ৩০০। চাহিদা ১৫ হাজার টন। আমদানি ২০ হাজার টন। টান পড়ার কথা নয়। তাতেও আয়ত্তের বাইরে। মসুর ডালের উৎপাদন ২ লাখ ৬০ হাজার টন। আমদানি ১ লাখ ৩৬ হাজার টন। চাহিদা ৩ লাখ টনের বেশি। উপযুক্ত সরবরাহ সত্ত্বেও দামে আগুন। আন্তর্জাতিক বাজারে কেজি ৬৮, বাংলাদেশে ১৫৫। ছোলা ৭৫ থেকে বেড়ে ৮৫।

Manual6 Ad Code

অবস্থা সামাল দিতে মাঠে নেমেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবি। রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্য তারা বিক্রি করবে ১৭৪টি ট্রাকে। ন্যায্য দামে মিলবে প্রয়োজনীয় সব কিছুই। তা না হয় হলো। বাজার কী চড়তেই থাকবে? পকেট কাটা বন্ধ হবে না? ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েও পার পাবে। এখনও পর্যন্ত একটাই সান্ত্বনা, ভোজ্য তেলের দাম বাড়েনি। শুধু তেলে তো রান্না হয় না। আরও যে অনেক কিছু চাই।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code