সিলেট ৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট-ছাতক রেলপথে চলন্ত ট্রেন থেকে দুই কিশোরীকে অপহরণ করে গণধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে অভযোগ পাওয়া গেছে। পরে খবর পেয়ে বিশ্বনাথের মান্দাবাজ প্রাম থেকে পুলিশ অপহৃত দুই কিশোরীকে উদ্ধার করে ছাতক থানা পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরীর মধ্যে পাশবিকতার শিকার হওয়া কিশোরীকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)-এ ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় একটি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ৮।
এদিকে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাতক থানা পুলিশ দুই যুবককে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো- বিশ্বনাথ উপজেলার মান্দাবাজ গ্রামের সোনা আলী-ঠাকুরের ছেলে আব্দুল বারিক (২৮) ও একই এলাকার আব্দুল মন্নানের পূত্র রোমান মিয়া (৩০)।
জানা গেছে, সিলেট নগরীর খোজারখোলা রেলওয়ে কলোনীর বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী এক কিশোরী তার ১৬ বছর বয়সী এক ভাগনীকে নিয়ে গত ৭ অক্টোবর সকালে ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজালাবাদ ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামে দুলাভাই রুবেল মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে যায়। বেড়ানো শেষে গত ১১ অক্টোবর বিকেলে দুই কিশোরী দুলা ভাইয়ের বাড়ী থেকে সিলেট যাবার উদ্দেশ্যে গোবিন্দগঞ্জস্থ ছৈলা-আফজালাবাদ রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে। এ সময় সময় ৬/৭ জন বখাটে দু’কিশোরীর পিছু নেয়। ট্রেনে সিলেট যাওয়ার পথে সৎপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছামাত্র সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে লম্পট বারিক তার সহযোগী বখাটেদের নিয়ে দু’কিশোরীর মুখ বেঁধে ট্রেন থেকে তাদের নামিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর বারিক তার গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে এক কিশোরীকে ৬ জন মিলে পালাক্রমে পাশবিকতা করে ও অপর কিশোরীকে শারীরিক ভাবে নির্যাতনের পর একটি কক্ষে বন্দী করে রাখে।
অপহরণের খবর কিশোরীর দুলাভাই রুবেল মিয়া জানতে পেরে বিষয়টি ছাতক থানা পুলিশকে অবহিত করেন। ১২ ঘন্টার মধ্যেই এসআই শফিকুল আলমের নেতুত্বে একদল পুলিশ গত বুধবার সকালে বিশ্বনাথ উপজেলার মান্দাবাজ গ্রাম থেকে দু’কিশোরীকে উদ্ধার ও লম্পট আব্দুল বারিক ও রোমান মিয়াকে আটক করে ছাতক থানায় নিয়ে যায়। ১২ অক্টোবর সারাদিন নানা টালবাহানার পর অপহরণও ধর্ষণের ঘটনাস্থল বিশ্বনাথ উপজেলায় হওয়ায় রাত ২টায় ছাতক থানা পুলিশের হাতে উদ্ধারকৃত দু’কিশোরী ও আটককৃতদের বিশ্বনাথ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার পাশবিকতার শিকার হওয়া কিশোরীর দুলাভাই রুবেল মিয়া বাদী হয়ে দু’জনের নাম উল্লেখ করে বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করেছেন বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম পিপিএম।
বিশ্বনাথ থানার এসআই হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, পাশবিকতা ও নির্যাতনের শিকার দু’কিশোরীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটককৃত আসামী আব্দুল বারিক ও রোমান মিয়াকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি