বোরো ফসল হুমকির মুখে, সুনামগঞ্জে উদ্বিগ্ন কৃষকরা

প্রকাশিত: ৯:৪৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০১৭

বোরো ফসল হুমকির মুখে, সুনামগঞ্জে উদ্বিগ্ন কৃষকরা

Manual5 Ad Code

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের একমাত্র ভরসা এক ফসলী জমি বোরো ফসল। বর্তমান সরকার যখন খাদ্য সংকট মোকাবিলা করতে সুনামগঞ্জের অন্যতম শস্য-ভান্ডার বোর ফসল রক্ষার্থে ক্রুটিপুর্ণ বাঁধ নির্মাণ ও ক্লোজার (ভাঙ্গা) মেরামতের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময় ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে শুরু হওয়ার কথা কিন্তু জানুয়ারী মাস দিন অতিবাহিত হলেও শুরু হয়নি ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ। যার ফলে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওর, সাংহাই হাওর, কাচিভাঙ্গাঁ হাওর, জামখলা হাওর ও খাইহাওসহ উপজেলার সবকয়টি হাওরের কৃষকদের ২২ হাজার হেক্টর জমির একমাত্র বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দেখার হাওরের হলদির খাড়া, উতারিয়া, পাতারিয়াসহ উপজেলার সবকয়টি হাওরের কোন বাঁধের কাজ এখনও শুরু হয়নি, আবার বিগত বছরগুলিতে বিপদগ্রস্থ যে বাঁধগুলোর অংশ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকে সোনালী ফসল তলিয়ে গিয়েছিল এবারও সেই অংশগুলোই বিপদগ্রস্থ বলে মত প্রকাশ করছেন অনেক কৃষক। বোর মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢল হলে মহাসিং নদীর পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি চলে আসে। যা পানির প্রথম ধাক্কায় বাঁধগুলো হুমকির সম্মুখীন হয়। পিআইসি’র মাধ্যমে যে কাজগুলো হয় তা অনেকাংশেই অগোছালো অবস্থায় থেকে যায়।

Manual4 Ad Code

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার একাধিক কৃষক সাংবাদিকদের কাছে বলেন, পাউবো’র নিয়ম অনুযায়ী যে মাপের ভিত্তিতে কাজ করার কথা সে অনুযায়ী কিছু কিছু পিআইসি কাজ সম্পুর্ন করলেও অধিকাংশ পিআইসি তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সরকার প্রতিবছর ফসল রক্ষা বাধঁ নিমার্নের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও বিগত বছরগুলোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু সুযোগ সন্ধানী দূনীর্তিবাজ কর্মকতা ও ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতির কারণে সময়মতো দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মানের নামে লুকোচুরি, অসমাপ্ত কাজ, টেকসই বাধঁ নির্মান না হওয়া, সময় কালক্ষেপন ইত্যাদি কারণে আাগাম বন্যায় কৃষকরা তাদের সোনালী ফসল হারাতে হয়েছিল। সরকার চলতি বছর নির্ধারিত সময়ে বাঁধ নির্মানের জন্য টাকা বরাদ্দ দিলেও ১৫ ডিসেম্বর থেকে বাধঁ নির্মান কাজ শুরু করার কথা এবং তা ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে সকল বাধেঁর নির্মান কাজ সমাপ্ত করার কথা থাকলে সময় কালক্ষেপন করায় বর্তমান পর্যন্ত হাওরে বাধঁ নির্মান কাজ শুরু হয়নি। ফলে কাজ অদৌ কখন শুরু হবে কি হবেনা এ নিয়ে চরম হতাশা আর শঙ্কায় রয়েছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক কৃষক। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার মোট ১৭ টি বাঁধের কাজ পিআইসি (প্রজেক্ট ইমপি¬মেনটেশন কমিটি) গঠন করে ফসল রক্ষা বাঁেধর নির্মান করা হয়। কিন্তু সরকারের নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি এ নিয়ে কৃষকদের মাঝে সন্দেহ আর প্রচন্ড ক্ষোভ রয়েছে। প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে বেরিবাঁধের কাজ শুরু হয়না। ফাল্গুন চৈত্র মাসে তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করলে বৃষ্টি বাঁধলের সময় মাটি বসার আগেই মাটি ধসে পড়ে এছাড়া মাটি কাটার খরচ বাঁচাতে বাঁধের খুব কাছ থেকে মাটি উত্তোলণ করে প্রতিবছর নির্মান করা হয় বেরীবাঁধ। ফলে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই বাঁধ ভেঙ্গে হাওরে পানি প্রবেশ করে সোনালী ফসল তলিয়ে যায়। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী সাধরণ বাঁধের ১০ ফুট, ক্লোজারের ক্ষেত্রে ৩০ ফুট দূরত্বে মাটি উত্তোলনের কথা রয়েছে। পাউবো এসও কে ম্যানেজ করে পি.আই.সি (প্রজেক্ট ইমপি¬মেনটেশন কমিটি) ক্রটিপুর্ণ বাঁধ নির্মাণ করে অফিস থেকে অনায়াসে বছরের পর বছর বিল উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছেন। একাধিক পিআইসি চেয়ারম্যানদের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদেরকে যে পরিমান টাকা বরাদ্দ দিয়েছে তা এখনও পাননি এবং প্রয়োজনীয় সময়ে বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে।

এ ব্যপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলমগীর কবির জানান, ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করার বিষয়ে কমিটি গঠন করে মিটিং করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে অচিরেই কাজ শুরু হবে।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম জানান, বেরিবাঁধের কাজের ব্যাপারে মিটিং করে সব পিআইকে বলে দেওয়া হয়েছে কাজ শুরু করার জন্য, যদি এখন ও কাজ শুরু না হয় তাহলে সবাইকে আবার বলা হবে যেন অচিরেই কাজ শুরু করা হয়।

Manual1 Ad Code

এ ব্যপারে সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ফসল রক্ষাবাঁধের কাজের সব ইষ্টিমিট করা শেষ হয়েছে দু-একদিনের মধ্যে কাজ শুরু হয়ে যাবে।
এ ব্যপারে সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফসার উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনির মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code