মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশনে ভোগান্তিতে বাংলাদেশিরা

প্রকাশিত: ১:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৬

মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশনে ভোগান্তিতে বাংলাদেশিরা

Manual5 Ad Code

নিউজ ডেস্ক :: মালয়েশিয়া পুত্রাযায়া ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশিদের জন্যই যেন নিয়মটা আলাদা। অন্যান্য দেশের নাগরিকদের নির্দিষ্ট কাউন্টারে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলেও বাংলাদেশিদের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যাওয়ার আগে লাইনে দাঁড় করিয়ে তথ্যানুসন্ধান করা হয়।

Manual5 Ad Code

শুক্রবার মালয়েশিয়ার পিং সিটি পুত্রাযায়া ইমিগ্রেশনে গেলে এ চিত্রই চোখে পড়ে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশিদের লাইনে দাঁড় করিয়ে তথ্যানুসন্ধানের নামে অপমানও করা হচ্ছে। বিষয়টি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও দূতাবাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা বলছেন, ইমিগ্রেশনে বাড়তি নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশীদের উপর বাড়তি নজরদারির অংশ হিসেবে তারা প্রত্যেক বাংলাদেশিদের কাগজপত্র যাচাই করছেন। পরে তাদের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। কাউকে নাজেহাল করার জন্য নয়।

Manual1 Ad Code

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা এক বাংলাদেশি মালিকানাধীন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কেরিকমকে গত দুই বছর আগে দায়িত্ব দেওয়া হয় অবৈধ শ্রমিকদের স্পেশাল পাশ ইস্যুর জন্য। রীতিমতো ওই কোম্পানি পুত্রাযায়া ইমিগ্রেশশন কাউন্টারের পাশে একটি অফিস করেছে। যেখানে স্পেশাল পাশ ইস্যু করতে বাংলাদেশিদের জন্য গুনতে হয় ৯৫০ রিংগিত। অন্যান্য দেশের বেলায় ট্রাভেল পাশ ইস্যু করতে খরচ হয় ৪০০ রিংগিত। এ নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রথম থেকে এর বিরোধিতা করে আসলেও পাত্তা দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি।

শুধু বাংলাদেশিদের বেলায় ৯৫০ রিংগিত কেন- জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান, অবৈধ বাংলাদেশি দেশে যেতে চাইলে হাইকমিশন থেকে ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হয়। আর ওই ট্রাভেল পাস নিয়ে যাওয়া হয় পুত্রাযায়া স্পেশাল পাশ ইস্যুর জন্যে । ৯৫০ রিংগিত না নিতে হাইকমিশন থেকে বার বার নিষেধ করে আসলেও কেন নিচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিযোগের ভিত্তিতে মিশনের লেবার কাউন্সিলার ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

এদিকে কেরিকমকে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ মৌখিক নিষেধ করলেও তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় কাউন্টারে প্রবেশ করতেই একজন নারী ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা বললেন, সব বাংলাদেশিকে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে। কেউ কেই অনুমতি পেলেও অনেক বাংলাদেশিকে বলা হলো পাশের কাউন্টার থেকে ফরম পূরণ করে নিয়ে আসতে। কাগজপত্র ঠিক থাকলে ৯৫০ রিংগিতের বিনিময়ে ইস্যু হচ্ছে স্পেশাল পাস। আবার কারো কারো কাগজপত্র ঠিক না থাকায় কাগজ ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা।

Manual7 Ad Code

এমন ভোগান্তিতে পড়া ময়মনসিংহের আফজাল মিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, হাইকমিশন থেকে ৪৪ রিংগিত ব্যাংকড্রাফ্ট দিয়ে ট্রাভেল পাস ইস্যু করে নিয়ে এসেছি । নানা প্রশ্ন করে আমাকে নাজেহাল করার চেষ্টা করা হয়েছে। উপায় না পেয়ে শেষে ইমিগ্রেশনের বাহির ওত পেতে থাকা দালালের মাধ্যমে ১২০০ রিংগিতের বিনিময়ে স্পেশাল পাস করেছি।

Manual3 Ad Code

সিলেটের ফিরোজ মিয়া নামে আরেক বাংলাদেশির অভিযোগ, গত এক সপ্তাহ ধরে আসা যাওয়া করে শেষ পর্যন্ত দেশে যাওয়ার অনুমতি পেলাম। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের মিশনের কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্বে স্পেসাল পাস দেওয়া হয় । কিন্তু আমাদের দূতাবাস ট্রাভেল পাস ইস্যু করে ইমিগ্রেশনে পাঠিয়ে দেয় । এভাবে প্রতিদিনই হয়রানির শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশিরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code